Logo

ক্ষণিকের দেখায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক অনন্য আত্মিক বন্ধন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৯
ক্ষণিকের দেখায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক অনন্য আত্মিক বন্ধন
ছবি: সংগৃহীত

রোদ-বৃষ্টি কিংবা গভীর রাত—প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকেন কয়েকজন মানুষ। উদ্দেশ্য একটাই, প্রিয় মানুষটির গাড়ি একবার চোখের সামনে দিয়ে যাওয়া দেখা। কখন গাড়িবহর সেই পথ অতিক্রম করবে, তা নিশ্চিতভাবে জানা না থাকলেও প্রতিদিনের যাতায়াতের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে তারা অপেক্ষায় থাকেন।

বিজ্ঞাপন

অপেক্ষার সেই মানুষটি বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে এমন কিছু মানুষকে নিয়মিত দেখা যায়, যারা কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যাওয়ার সময়টুকুতে রাস্তার পাশে অবস্থান নেন। কারও অপেক্ষা শুরু হয়েছে প্রথম দিন থেকেই, আবার কেউ প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত যাতায়াতের পথ জেনে সেখানে দাঁড়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলেছেন।

কেউ রিকশার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন, কেউ দোকানের সামনে, আবার কেউ ফুটপাতের ধারে। দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যেও তাদের চোখ থাকে সড়কের দিকে। অপেক্ষা শুধু কয়েক সেকেন্ডের জন্য—চলন্ত গাড়ির ভেতর থাকা প্রিয় মানুষটিকে একবার দেখার জন্য।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দিনের পর দিন একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা এসব মানুষ এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। গাড়িবহর তাদের কাছাকাছি পৌঁছালে অনেক সময় গতি কিছুটা কমে আসে। রাস্তার পাশে থাকা মানুষগুলো হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান, আর গাড়ির ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে হাত তুলে তার জবাব দেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, রমনা থানার পাশে যমুনা ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে পাবনার এক বৃদ্ধ নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। প্রধানমন্ত্রী ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি হাতে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। গাড়িবহর অতিক্রম করার সময় একনজর প্রধানমন্ত্রীকে দেখে হাত নেড়ে অভিবাদন জানাতেন। এরপর নাশতা করে কাজে যোগ দিতেন।

বিজ্ঞাপন

আতিকুর রহমান রুমনের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওই এটিএম বুথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং বৃদ্ধের চাকরিও নেই। কিন্তু তার অপেক্ষার অভ্যাস বদলায়নি। প্রতিদিন সিকিউরিটি গার্ডের পুরোনো ইউনিফর্ম পরে হাতে ধানের শীষ নিয়ে তিনি আগের জায়গাটিতে চলে আসেন। দাঁড়িয়ে থাকেন গাড়িবহরের অপেক্ষায়। কিছুক্ষণ পর গাড়ি সামনে দিয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ডের সেই দেখা শেষ হলে প্রশান্তি নিয়ে তিনি নাশতা করেন এবং নিজের গন্তব্যে ফিরে যান।

বনানীর দুবাই মার্কেটের কাছেও নিয়মিত এমন অপেক্ষারত দুজন রিকশাচালক রয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব। জীবিকার ব্যস্ততার মধ্যেও তারা প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যাওয়ার সময়টির জন্য অপেক্ষা করেন। গাড়ি কাছে এলেই তাদের চোখেমুখে আনন্দের প্রকাশ দেখা যায়।

বনানী কাঁচাবাজার এলাকাতেও রয়েছে এমন পরিচিত কয়েকটি মুখ। ফুল ও ফল বিক্রেতাদের কেউ কেউ প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির অপেক্ষায় থাকেন। ফুটপাতের হকারদের মধ্যেও রয়েছেন এমন মানুষ। কাজের ফাঁকে তারা দাঁড়িয়ে পড়েন রাস্তার পাশে, অপেক্ষা করেন কাঙ্ক্ষিত সেই কয়েক মুহূর্তের জন্য।

বিজ্ঞাপন

কামাল আতাতুর্ক রোডেও রাতে এমন একজনের নিয়মিত অপেক্ষার কথা জানান আতিকুর রহমান রুমন। প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি ফেরার সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে কখনও গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। নাম জানা না থাকলেও প্রতিদিন একই জায়গায় থাকার কারণে তার মুখটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে। গাড়ি ওই এলাকায় পৌঁছালে গতি কিছুটা কমে যায় এবং গাড়ির ভেতরের আলো জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তার অভিবাদনের জবাব দেন।

গুলশান-২-এর প্রধান সড়ক থেকে গলির ভেতরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও হোটেলের কর্মীরাও রাতে প্রধানমন্ত্রীর ফেরার সময় রাস্তার পাশে অপেক্ষা করেন। আতিকুর রহমান রুমন বলেন, তাদের কাছাকাছি পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী অনেক সময় গাড়ির ভেতরের আলো জ্বালিয়ে দেন, যাতে অপেক্ষমাণ মানুষগুলো তাকে স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন। আলো জ্বলে উঠলে তাদের পরিচিত মুখে আনন্দের ছাপ ফুটে ওঠে।

কেউ হাত নাড়েন, কেউ আবার নীরবে তাকিয়ে থাকেন গাড়ির দিকে। চলন্ত গাড়ির ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাত তুলে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। কোনো কথা হয় না, গাড়ি থেমে যায় না, কুশল বিনিময়ের সুযোগও তৈরি হয় না। তারপরও কয়েক মুহূর্তের এই দেখা নিয়মিত অপেক্ষমাণ মানুষগুলোর কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

অতিরিক্ত প্রেস সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, শুরুতে এই অপেক্ষা ছিল মূলত পথের পাশের মানুষগুলোর পক্ষ থেকে। তারা জানতেন, নির্দিষ্ট পথ দিয়েই প্রধানমন্ত্রী যাতায়াত করবেন। তাই কাজের ফাঁকে কেউ রাস্তার পাশে এসে দাঁড়াতেন, কেউ অপেক্ষা করতেন শুধু একঝলক দেখার আশায়।

বিজ্ঞাপন

সময় গড়ানোর সঙ্গে সেই পরিচিতি যেন দুই পক্ষের মধ্যেই তৈরি হয়েছে। পরিচিত জায়গাগুলো কাছে এলে প্রধানমন্ত্রীও অপেক্ষমাণ মানুষগুলোকে খুঁজে দেখেন—তারা আজও সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন কি না। এই সম্পর্কের কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন নেই। নেই মঞ্চ, বক্তৃতা কিংবা করতালির আয়োজন। রয়েছে শুধু অপেক্ষা, পরিচিত মুখ এবং একে অপরকে খুঁজে নেওয়ার নীরব অভ্যাস।

একদিকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ, অন্যদিকে চলন্ত গাড়ি থেকে তাদের দিকে ফিরে আসা অভিবাদন—মাঝখানে কয়েক হাতের দূরত্ব। অথচ সেই কয়েক মুহূর্তের দেখাই দিনের পর দিন ধরে তাদের মধ্যে পরিচিতি ও আবেগের এক বিশেষ সম্পর্ক তৈরি করেছে বলে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তথ্য সূত্র: বাসস

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD