Logo

‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’: ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীকে বললেন পলক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:৪৪
‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’: ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীকে বললেন পলক
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলাকালে সাক্ষীর জবানবন্দির একটি অংশ বাদ দেওয়ার আবেদনকে কেন্দ্র করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ হয়েছে। এ সময় সাক্ষীকে উদ্দেশ করে সাবেক তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’। পরে পলককে থামিয়ে কথা কম বলার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে বিচারকাজ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

এদিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মামলায় দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা মাহদী আমিন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জবানবন্দির একপর্যায়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী একটি বিষয়কে ‘ভূতাপেক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক প্রসিকিউশনের উদ্দেশে বলেন, এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন? এখানে আমার বিচার হচ্ছে, ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী। আমরা আপনার কোনো আদেশ বা কথা শুনতে আসিনি।

বিজ্ঞাপন

পলকের এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান প্রসিকিউটর তামিম। তিনি বলেন, আসামিপক্ষের কোনো বক্তব্য থাকলে তা তাঁদের আইনজীবীরা উপস্থাপন করবেন। আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো আসামি এভাবে হঠাৎ কথা বলতে পারেন না।

এ নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে ট্রাইব্যুনাল পলকের উদ্দেশে বলেন, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। তাই কথা বলতে চাইলে অনুমতি নিয়ে বলতে হবে। এখানে কারো সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই, কেউ যেন কোনো কিছু ব্যক্তিগতভাবে না নেন।

বিজ্ঞাপন

সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে বিটিআরসি কর্মকর্তা মাহদী আমিন ২০২৪ সালের ২৮ জুলাইয়ের এক বৈঠকের উল্লেখ করে ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের প্রসঙ্গ তোলেন। তবে এই বাক্যটি মামলার মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় জানিয়ে প্রসিকিউশন এটি বাদ দেওয়ার আবেদন জানায় এবং সাক্ষীও তাতে সায় দেন।

তখন কাঠগড়া থেকে পলক সাক্ষীর উদ্দেশ্যে বলে ওঠেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’। এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল পলককে থামিয়ে দিয়ে বলেন, একটু বসতে পারেন, দয়া করে কথা কম বলেন।

পরবর্তীতে আদালতের অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, মাননীয় আদালত, প্রসিকিউশন প্রশ্ন করে জবানবন্দি নিয়েছেন। এখন তা বাদ দিতে হলে তো হোস্টাইল (স্বার্থবিরোধী) ঘোষণা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আইনজীবী লিটন আহমেদ ট্রাইব্যুনালে পলকের পক্ষে আইনি লড়াই চালান। অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসিকিউশনের আনা তিনটি প্রধান অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন পলক। যার জেরে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়।

এ ছাড়া ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি দেওয়া এবং হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ মোট ২৮ জন নিহত হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মামলাটিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিচারিক কার্যক্রম চলছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD