Logo

লিফট চালু, তবুও হাতকড়া পরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ছয়তলায় পলক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:১৭
লিফট চালু, তবুও হাতকড়া পরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ছয়তলায় পলক
ছবি: সংগৃহীত

লিফট চালু থাকার পরও হাতকড়া পরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ছয়তলায় নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একই সঙ্গে মানবিক দিক বিবেচনা করে হাতকড়া সামনে পরানোর ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য পলকসহ আট আসামিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এ হাজির করা হয়। বিচারক রবিউল আলমের আদালতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের আপত্তির কথা জানান পলক।

আদালতে পলক বলেন, ‘লিফট চালু দেখলাম, তারপরও হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে ছয়তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে।’ এরপর তিনি মানবিক বিবেচনায় হাতকড়া সামনে পরানোর ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন।

পলকের বক্তব্যের পর বিচারক বলেন, ‘এটা তো আপনাদের নিরাপত্তার জন্যই।’ জবাবে পলক বলেন, ‘হাতকড়া সামনে রাখলেই হয়।’

বিজ্ঞাপন

পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পিপির মনে রাখা দরকার, তার ওই স্থান থেকে আমার এই স্থানের দূরত্ব বেশি নয়।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আদালতের কার্যক্রম শেষে পলককে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে নেওয়া হয়। হাজতখানায় নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের দেখে আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় পলক বলেন, ‘লিফট শুধু আমাদের জন্য নষ্ট থাকে।’

এদিন মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির কথা থাকলেও দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি থাকায় তাদের এ মামলায় হাজির করা যায়নি। ফলে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

মামলার নথি অনুযায়ী, শেখ হাসিনাসহ ৩৪ আসামির মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, ফুরকান হোসেন ও শাজাহান খান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্য আসামিদের কেউ জামিনে এবং কেউ পলাতক।

অভিযোগপত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সংগঠনটির কয়েকজন নেতা এবং মামলায় সংশ্লিষ্ট আরও ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের চাঁদউদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় নিহতের মা রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান।

অভিযোগপত্র দাখিলের পর থেকে মামলাটি অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে পলককে আদালতে হাজির করা সম্ভব না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সময় আবেদন করে। পরে আদালত শুনানি পিছিয়ে ৮ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবারও দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা সম্ভব না হওয়ায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি হয়নি। মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করবেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD