গার্মেন্টস কর্মীকে ছিনতাইয়ের পর হত্যা: তিন জনের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সায়মন (১৭) নামে এক গার্মেন্টস কর্মীকে ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তিন আসামি মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার ১৩ তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি প্রত্যেকের ২০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। এছাড়াও একই অভিযোগে সুজন নামে আরেক আসামিকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আবুল কালাম আজাদ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা তিন আসামি ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদীকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ভিকটিম সায়মন মিরপুর-১ সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকুরী করতো। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর অফিস থেকে বেতন তুলে দুই সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানের সাথে মার্কেট করতে মিরপুর-১ এ যায়। মার্কেট শেষে রাত ৯ টার দিকে বাসায় ফেরার পথে অজ্ঞাতনামা তিন ছিনতাইকারীর একজন আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে সায়মনকে বলেন, সে নাকি তার ছোট ভাইকে মেরেছে। চল কথা আছে বলে সায়মান ও রিফাতকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রূপায়ন টাওয়ারের সামনে থেকে রিক্সায় করে দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে কাঁচাবাজারের সামনে নিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
আরও বলা হয়, শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাঁচাবাজারের সামনে রিফাতকে নামিয়ে দেয়। সায়মনকে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ভেতর নিয়ে যায়। তিন ছিনতাইকারী চাকু বের করে ভয় দেখিয়ে সায়মনের কাছে যা যা আছে দিয়ে দিতে বলে। সে মোবাইল ও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে ছুরি দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। সায়মনের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে দারুস সালাম থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে গিয়ে দারুস সালাম থানা পুলিশ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে। পরে সে ইকবাল ও মেহেদী হাসানও ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করে।
সায়মনের মোবাইল বিক্রির বন্টের টাকা ইউসুফের বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। সুজনের কাছে সায়মনের মোবাইলটি ২২০০ টাকায় বিক্রি করার কথাও সে স্বীকার করে।
বিজ্ঞাপন
২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারী মামলার তদন্ত শেষে ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল নিজের কাছে রাখার অপরাধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন দারুস সালাম থানার উপপরিদর্শক সোহান আহমেদ।
একই বছরের ২ অগাস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।








