ছিনতাইয়ের পর গার্মেন্টস কর্মীকে হত্যা, তিন জনের মৃত্যুদণ্ড

চার বছর আগে রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সায়মন নামে এক গার্মেন্টস কর্মীর টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের পর হত্যার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় চোরাই মোবাইল কেনার দায়ে সুজন নামে একজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১৩-এর বিচারক জাহিদুল ইসলামের আদালত এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদীকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। অপর আসামি সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মামলার বিবরণে জানা যায়, সায়মন মিরপুর-১ নম্বরে সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর অফিস থেকে বেতন তুলে দুই সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানের সঙ্গে মিরপুর-১ এলাকায় কেনাকাটা করতে যান তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কেনাকাটা শেষে রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার পথে আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ছিনতাইকারীর একজন সায়মনকে বলেন, তিনি নাকি তার ছোট ভাইকে মারধর করেছেন। ‘কথা আছে’ বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে সায়মন ও রিফাতকে রূপায়ন টাওয়ারের সামনে থেকে রিকশায় করে দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে কাঁচাবাজারের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।
শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাঁচাবাজারের সামনে রিফাতকে রিকশা থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে সায়মনকে স্মৃতিসৌধের ভেতরে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। সেখানে তারা চাকু বের করে ভয় দেখিয়ে সায়মনের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন দিতে বলে।
বিজ্ঞাপন
সায়মন টাকা ও মোবাইল দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা। সায়মনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে দারুস সালাম থানায় মামলা করেন।
তদন্ত শেষে দারুস সালাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহান আহমেদ ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগ আনা হয়। আর সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল নিজের কাছে রাখার অভিযোগ আনা হয়।
বিজ্ঞাপন
২০২৩ সালের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।








