Logo

কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: হানিফসহ চার নেতার সর্বোচ্চ সাজা চাইল প্রসিকিউশন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:১৩
কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: হানিফসহ চার নেতার সর্বোচ্চ সাজা চাইল প্রসিকিউশন
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ সাজা দাবি করা হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্য প্রসিকিউটররা।

গাজী এমএইচ তামিম বলেন, হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশন কিছু অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দাখিল করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার তাদের যুক্তিতর্ক শেষ করা হয় এবং চার আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হানিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে প্রসিকিউটর বলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলন দমনে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন তিনি। অধীনস্তদের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের কার্যক্রম বাস্তবায়নেও ভূমিকা রেখেছেন। তিনি সিভিলিয়ান লিডার হিসেবে অধীনস্তদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বলে প্রসিকিউশনের দাবি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গাজী এমএইচ তামিম আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকেও একই অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই অবস্থানে থেকে মাহবুবউল আলম হানিফকেও ট্রাইব্যুনাল একই শাস্তি দেবেন বলে প্রসিকিউশন আশা করছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে অংশ নিয়েছেন হানিফ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি ও সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন বৈঠকে উপস্থিত থেকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি টেলিফোনে কুষ্টিয়ার এসপি, জেলা-উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এসব টেলিফোন কথোপকথন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

বিজ্ঞাপন

মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক।

এর আগে ১০ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

গত বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD