স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ ৪ টুকরো, আদালতে স্বামীর ‘স্বীকারোক্তি’

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে স্ত্রী শিরিন বেগমকে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তার স্বামী দুলাল হাওলাদার। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরকীয়ার সন্দেহ নিয়ে দাম্পত্য বিরোধের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ চার টুকরো করার কথা জবানবন্দিতে জানিয়েছেন তিনি। তবে নিহতের ছেলে সিরাজ হাওলাদারের দাবি, বিদেশে উপার্জন করা টাকা না পাওয়ার কারণেই তার বাবা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে দুলালকে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে সোমবার এ ঘটনায় বাবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহত শিরিনের ছেলে সিরাজ হাওলাদার।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুল ইসলাম জানান, শিরিন বেগম জর্ডানে থাকতেন। প্রায় দুই মাস আগে দেশে ফেরার পর স্ত্রী অন্য সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে সন্দেহ করতে শুরু করেন দুলাল। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
বিজ্ঞাপন
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে দুলাল শিরিনের চুল ধরে মেঝেতে আঘাত করেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে বটি দিয়ে মরদেহ চার টুকরো করার কথা দুলাল তার জবানবন্দিতে জানিয়েছেন বলে পুলিশ জানায়।
তবে বাবার করা পরকীয়ার সন্দেহকে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে মানতে নারাজ ছেলে সিরাজ হাওলাদার। তার অভিযোগ, বিদেশে উপার্জন করা টাকা না পাওয়ায় তার বাবা মাকে হত্যা করেছেন।
সিরাজের দাবি, ছোটবেলা থেকেই তার বাবা পরিবারের সদস্যদের মারধর করতেন। অন্যদিকে তার মা জর্ডানে অবস্থান করে দুই ভাই-বোনের পড়াশোনা এবং সংসারের খরচ বহন করতেন।
বিজ্ঞাপন
সিরাজ জানান, পরিবারের সবাই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চান। তার বোনও বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় বাবার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন নিহতের ছেলে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে দুলাল ও শিরিন দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগ এলাকার একটি বাসায় ভাড়া ওঠেন। রোববার রাতে হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার ভোরে বাড়ির মালিকের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পরে বাসার রান্নাঘরের মেঝে থেকে শিরিনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, মরদেহের মাথা এবং কোমরের নিচের অংশ থেকে দুই পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল।
বিজ্ঞাপন
শিরিনকে হত্যার আগে কোনো কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠিয়েছে পুলিশ। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।
এদিকে আদালতে দুলালের দেওয়া জবানবন্দি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনার মাধ্যমে মামলার তদন্তের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।








