‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের রায়’ পোস্ট নিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন দুই আইনজীবী

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগে নিজেদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইনজীবী এম হাসানুজ্জামান তুষার ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের রায়’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এই দুই আইনজীবী।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ উপস্থিত হয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন তারা। এ সময় দুজনই নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
বিজ্ঞাপন
গত ১৫ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ফেসবুকে এ নিয়ে মন্তব্য করেন আইনজীবী এম হাসানুজ্জামান তুষার ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী। তাদের পোস্ট ও মন্তব্য ট্রাইব্যুনালের নজরে আসার পর আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, এক আইনজীবী তার পোস্টে ট্রাইব্যুনালকে ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ আখ্যা দেন। পাশাপাশি রায়কে ‘মিথ্যা-বানোয়াট’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করে তা প্রত্যাখ্যানের কথা জানান। অপর আইনজীবীও মন্তব্যে রায়কে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ রায়’ বলে উল্লেখ করেন এবং সেটি প্রত্যাখ্যান করেন।
এসব বক্তব্যের মাধ্যমে আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করে প্রসিকিউশন। পরে তাদের সশরীরে হাজির হয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
ওই দিন শুনানি শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তাদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ অসুস্থ থাকায় নির্ধারিত দিনে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে শুনানির জন্য ২৬ অক্টোবর তারিখ ধার্য করা হয়।
বিজ্ঞাপন
নির্ধারিত দিনে দুই আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে নিজেদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন এবং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাস ট্রাইব্যুনালের নজরে আনা হয়েছে। ওই পোস্টগুলোর বিষয়বস্তু পর্যালোচনার পর আদালত অবমাননার অভিযোগে আবেদন করা হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, দুই আইনজীবীর বক্তব্যে ট্রাইব্যুনালের রায় ও আদালতের মর্যাদা নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। এ কারণে তাদের আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
বিজ্ঞাপন
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এম হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামীম।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
বিজ্ঞাপন
আদালত অবমাননার অভিযোগে শুনানির ধারাবাহিকতায় দুই আইনজীবীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে সোমবারের কার্যক্রম এগিয়েছে।








