Logo

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র: চার দিনের রিমান্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬:৪৪
রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র: চার দিনের রিমান্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অর্থায়ন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে করা পল্লবী থানার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ)-এর পুলিশ পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানির সময় খন্দকার আব্দুল হাফিজকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট হারুন অর রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। পরে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, খন্দকার আব্দুল হাফিজ তাঁর সহযোগী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষসহ (৪৭) অন্য আসামিদের সহায়তায় সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছিলেন। পাশাপাশি সহিংসতায় উসকানি দিতে পারে—এমন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আবেদনে আরও বলা হয়, কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল। তদন্ত কর্মকর্তার অভিযোগ, এসব যোগাযোগের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনকে পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস অপরাধের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘Khondokar A Hafiz’ নামের ফেসবুক আইডিসহ বিভিন্ন পেজে সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো পোস্ট দিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ হত্যার পক্ষে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও আনা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, কুৎসামূলক প্রচারণা এবং দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সঙ্গে আসামির যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে রিমান্ড আবেদনে।

আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সহযোগীদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত, রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের খুঁজে বের করা এবং অপরাধসংশ্লিষ্ট ডিজিটাল আলামত উদ্ধার ও জব্দ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য কোনো গোপন পেজ বা ওয়েবসাইট পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা অনুসন্ধান, মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, দেশবিরোধী পরিকল্পনা প্রতিহত এবং জব্দ করা আলামত যাচাইয়ের জন্যও রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে বলা হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে খন্দকার আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

গত ১২ অক্টোবর ডিবির পরিদর্শক মো. আলী আকবর পল্লবী থানায় মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদসহ পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে অবৈধ অর্থ সংগ্রহ, ‘কালআজকাল.কম’ ফেসবুক পেজ ও টকশোর মাধ্যমে উসকানি ছড়ানো, ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন এবং দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগসাজশে ৫ আগস্টের পর থেকে সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন আসামিরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD