ব্ল্যাকমেইল করছিলেন জেপি নেতা সালাম, বান্ধবীর নির্যাতনে মৃত্যু


Janobani

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১:৫৫ অপরাহ্ন, ১৯শে জুলাই ২০২৩


ব্ল্যাকমেইল করছিলেন জেপি নেতা সালাম, বান্ধবীর নির্যাতনে মৃত্যু
ছবি: ডিএমপি মিডিয়া উইং

রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানার কলেজ গেটে এলাকায় ফেলে যাওয়া জেপি নেতা সালাম বাহাদুরের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সালামের ব্ল্যাকমেইলে অতিষ্ঠ হয়ে নিজ বাড়িতে সুযোগ পেয়ে নির্যাতন চালায় কথিত বান্ধবীর পরিবার। এতেই তার মৃত্যু হয়।


জানা গেছে, ঢাকা ও মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার গাজিন্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা দুজন সম্পর্কে মা-মেয়ে। তবে গ্রেফতারকৃতদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।


বুধবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর শ্যামলীতে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক।


ডিসি এইচ এম আজিমুল হক জানান, গত ১৫ জুলাই রাত ১১টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম সালাম বাহাদুর ওরফে আব্দুস সালাম মিয়া (৬০)। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার ছিলেন।


এই ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


আরও পড়ুন: রাস্তায় ফেলা হলো জাতীয় পার্টি নেতার লাশ


মামলার তদন্তে নেমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সব ক্যামেরা অকার্যকর পাওয়া যায়। পরে পরিবার ও মোবাইল ট্রাকিং করে দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়।


গ্রেফতারকৃত নারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, নিহত সালামের সঙ্গে ৫-৬ বছর আগে ধানমন্ডির একটি সুপার শপে মেয়েটির পরিচয় হয়। চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতির সূত্রে পরিচয় থেকে অনৈতিক সম্পর্কে রূপ নেয়। আর এই সম্পর্কের বিভিন্ন মুহূর্ত গোপনে ভিডিও করে রাখেন সালাম। এরপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল। সালামের এমন কাজে দিশেহারা মেয়েটি ঢাকা ছেড়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নিজ বাড়িতে চলে যান। কিন্তু সালামের ব্ল্যাকমেইল চলতেই থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জুলাই বিকালে সালাম মেয়েটির বাড়িতে যান।’


সালাম যাওয়ার আগে মেয়ের পরিবার স্থানীয় কয়েকজনকে বিষয়টি জানায় বলে উল্লেখ করেন ডিসি আজিমুল হক। তিনি বলেন, ‘সালাম মেয়েটির বাড়িতে যাওয়ার পরেই শুরু হয় নির্যাতন। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় সালামের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য বারবার নির্যাতন করা হয়।


পরবর্তীতে সালাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার পথে মৃত্যু হয়।’ সালামের মৃত্যুর বিষয়টি টের পেয়ে অন্যরা নেমে যায়। এরপর গ্রেফতার মেয়ের মা সালামের লাশ গাড়িতে করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে পালিয়ে যায়।


লাশ উদ্ধারের পর সালামের শরীরে বিভিন্ন ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় পুলিশ।


গ্রেফতার মা-মেয়েকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।


জেবি/ আরএইচ/