নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৩
নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেছেন, এখানে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু বলে কোনো কথা নাই। এ দেশে যারা জন্মগ্রহণ করেছেন তারা যে ধর্মেরই হোক, কেউই সংখ্যালঘু নয়।
বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গণভবনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণভবনের মাটি আজ ধন্য হয়েছে। যারা এই দেশের মাটিতে জন্ম নিয়েছেন, তারা সবাই এই মাটিরই সন্তান ও নাগরিক। এই মাটির ওপরই আপনাদের অধিকার। কেনো সংখ্যালঘু বলেন নিজেদের?”
তিনি আরও বলেন, “কে জাতীয় পার্টি, কে বিএনপি, কে আওয়ামী লীগ, বা কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে খ্রিষ্টান, তা দেখে সেবা করি না আমরা। সব রক্তের রং লাল। মুক্তিযুদ্ধে সবার রক্ত মিশে গেছে এক স্রোতে। তাই এই দেশ সবার।”
সরকারপ্রধান বলেন, “এখন ধর্মীয় কোনো বৈষম্য নেই। যোগ্যতা দেখেই মূল্যায়ন করা হয়, এখানে ধর্মীয়ভাবে কোনো চিন্তা করা হয় না। বাংলাদেশ ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ। এখানে সকল ধর্মের মানুষ যার যার ধর্ম, সে সে পালন করবে। ধর্ম যার যার, উৎসব সকলের। আমরা সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে উৎসবে সামিল হতে চাই।”
আরও পড়ুন: মোদির বাড়িতে আপ্যায়িত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
এ সময় বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ভূলুণ্ঠিত করেছিল। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালায়। ভোট দিয়ে দেশসেবার সুযোগ দিয়েছিলেন বলেই, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।”
সব ক্ষেত্রেই কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ থাকে, তারা কিছু সমস্যা সৃষ্টি করতে চায় মন্তব্য করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, “এ ছাড়াও দেশের ভেতরে কিছু মানুষ আছে যারা, বিদেশে গিয়েও দেশের বদনাম করে। এ ব্যাপারেও সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
আরও পড়ুন: সেতু নির্মাণে ভুল নকশা, ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, “স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ সমানভাবে সুযোগসুবিধা-অধিকার নিয়ে বাঁচবে। কারণ আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি।”
শেখ হাসিনা বলেন, “শ্রী কৃঞ্চের আবির্ভাব হয়েছিল দুষ্টের দমন শিষ্টের লালনের জন্য। সেই শিক্ষা বাস্তবায়নের তাগিদ দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, সব ধর্মের মর্মবাণী এক ও অভিন্ন। ভাষা হয়ত ভিন্ন হতে পারে।”
জেবি/এসবি