‘যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন রুদ্র তার কবিতা, গান নিয়ে বেঁচে থাকবেন’


Janobani

উপজেলা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২:২০ অপরাহ্ন, ১৬ই অক্টোবর ২০২৩


‘যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন রুদ্র তার কবিতা, গান নিয়ে বেঁচে থাকবেন’
ছবি: সংগৃহীত

“ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো” জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা, তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৬৭তম জন্মবার্ষিকী নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে। ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালের রেডক্রস হাসপাতালে জন্মগ্রহন করেন তিনি। 


বাংলাদেশের কবিতায় অবিসস্মরণীয় এই কবির শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাকে দিয়েছে সত্তরের অন্যতম কবি-স্বীকৃতি। ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান।


দিনটির স্মরণে সোমবার (১৬ অক্টোবর) কবির পৈতৃক বাড়ি মোংলার মিঠেখালীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ‘রুদ্র স্মৃতি সংসদ’। এদিম সকাল ৯ টায় মিঠাখালী বাজার থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি মিঠাখালী বাজার প্রদক্ষিণ করে কবির মাজারে গিয়ে শেষ হয়।


এ সময় কবির কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। পরে সেখানে মিলাদ ও দোয়া এবং রুদ্র স্মরনানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 


স্মরণানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ।


এ সময় আরও  উপস্থিত ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান ও রুদ্র স্মৃতি সংসদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি মাহমুদ হাসান ছোট মনি, সংসদের সভাপতি ও রুদ্রের অনুজ সাংবাদিক সুমেল সারাফাত, রুদ্রের বন্ধু কবি রেজা সেলিম, মিঠাখালী ইউপি চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মণ্ডল, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুর আলম শেখ, স্থানীয় ইউপি সদস্য উকিল উদ্দীন ইজারদার, রুদ্র স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন, সংসদের নজমুল হক, জানে আলম বাবু, গোলাম মোহাম্মাদসহ অন্যান্যরা। 


আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় কবিতা ও আলোচনায় কবি আসাদ চৌধুরীকে স্মরণ সভা


আয়োজিত স্মরানুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বিশ্বাস করতেন সাহিত্যের জ্বালানি হচ্ছে রাজনীতি। কবিতায় তার নিজের সম্পর্কে বলেছেন, “আমি কবি নই, শব্দ শ্রমিক। শব্দের লাল হাতুড়ি পেটাই ভুল বোধে ভুল চেতনায়, হৃদয়ের কালো বেদনায়।”


কবি নিজেকে আর্টিস্ট কাম একটিভিস্ট মনে করতেন। দেশের অশুভ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কবিদের কী ভূমিকা হতে পারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে কবি রুদ্র বলেছিলেন, “রাজনীতি সচেতন একজন মানুষের যে ভূমিকা হবে, একজন কবিও সেই ভূমিকা গ্রহণ করবেন। সংগ্রামী ভূমিকা ছাড়াও কবিকে বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হয়, তা হলো-পাশাপাশি তাকে সংগ্রামী কবিতাও লিখতে হবে। বুদ্ধিবৃত্তিক আপোষকামিতায় দেশ যখন আকন্ঠ নিমজ্জিত, সত্য যখন নির্বাসনে এই রকম অস্থির সময়ে রুদ্রকে আমাদের নিজেদের জন্যে, দেশের জন্যে খুব প্রয়োজন ছিল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন রুদ্র তার কবিতা, গান নিয়ে বেঁচে থাকবেন।


আরও পড়ুন: সত্য আর মানবিকতার বন্দনায় কবি মোস্তফা কামাল


 এছাড়া দিনটি স্মরণে উন্নয়ন সংস্থা “আমাদের গ্রাম” এর আয়োজনে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাপীঠে দিনব্যাপী বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার এবং স্মরণসভা শেষে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও রুদ্রের গান পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে রুদ্র স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও রুদ্রের অনুজ সাংবাদিক সুমেল সারাফাত এর হাতে উপহারের বই তুলে দেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ।


জেবি/এসবি