পুরান ঢাকায় চলছে 'সাকরাইন' উৎসব, মাতোয়ারা পুরান ঢাকা


Janobani

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:১৯ অপরাহ্ন, ১৪ই জানুয়ারী ২০২৫


পুরান ঢাকায় চলছে 'সাকরাইন' উৎসব, মাতোয়ারা পুরান ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

পৌষ মাসের শেষ দিন আজ মঙ্গলবার। রাজধাননীর পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য এটি সাকরাইন উৎসব। সারাদিন ধরে আকাশে উড়লো, রঙ-বেরঙের ঘুড়ি। সন্ধ্যা নামতেই সে আকাশ আরও বর্ণিল, আতশবাজির আলোকছটায়। সাথে ছিল ফানুসও। তবে নানা বিধিনিষেধের কারণে চারশ’ বছরের পুরনো সাকরাইন উৎসব এবার কিছুটা যেন ঢিলেঢালা ভাবেই ছিল।


মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পরই পুরান ঢাকার আকাশজুড়ে ছিল বিভিন্ন রঙ-বেরঙের আলোর রোশনাই। ভবনের ছাদে ছাদে দেখা যায় আলোকসজ্জা। বাড়ির ছাদে ছাদে লাইট শো, ডিজে, আতশবাজি উৎসবের মূল আকর্ষণ। আতশবাজিতে ছেয়ে যায় রাতের আকাশ।


এই উৎসব যেন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের সাথে মিশে গেছে। বছরজুড়ে এখানকার মানুষ অপেক্ষায় থাকে দিনটির। প্রত্যেক বাড়ির ছাদে ছাদে চলে বিভিন্ন ধরনের আয়োজন।


আরও পড়ুন: সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনের বিরুদ্ধে এক নারীর গুরুতর অভিযোগ


মোঘল আমল থেকেই ঢাকায় এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। পৌষ-মাঘের সন্ধিক্ষনে খাজনা আদায় শেষে ঘুড়ি উৎসব আর খানাপিনার আয়োজন করতেন, ঢাকার তৎকালীন নবাবরা।


নাটাই সুতোর খেলা সন্ধ্যায় হয়ে ওঠে আরও বর্ণিল আর বৈচিত্র্যময়। প্রতিটি ছাদের আয়োজন নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা। তরুণদের মুখে-মুখে দুঃসাহসিক আগুনের ঝলকানি সাকরাইনে আনে ভিন্ন মাত্রা। ঘুড়ির বদলে রাতের আকাশে দখল নেয় ফানুশ।


আতশবাজির বর্ণিল আলোকছটা আর উৎসবের বহুমাত্রিক আয়োজনে মাতোয়ারা হন পুরান ঢাকার বাসীন্দারা। এক ছাদে এক হয়ে নাচে-গানে ঝালিয়ে নেন আত্মীয়তার মেলবন্ধন।


যেভাবে এলো সাকরাইন


সাকরাইন শব্দটি সংস্কৃত শব্দ সংক্রাণ থেকে এসেছে। যার আভিধানিক অর্থ হলো বিশেষ মুহূর্ত। অর্থাৎ বিশেষ মুহূর্তকে সামনে রেখে যে উৎসব পালিত হয় তাকেই বলা হয় সাকরাইন। এই সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অনেক দেশেই উৎসব পালিত হয়, তবে সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন নামে। বাংলায় দিনটি পৌষ সংক্রান্তি এবং ভারতীয় উপমহাদেশে মকর সংক্রান্তি নামে পরিচিত।


আরও পড়ুন: পুনাকের উদ্যোগে এতিমদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ


ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭৪০ সালের এই দিনে মোঘল আমলে নায়েব-ই-নাজিম নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানের আমলে ঘুড়ি ওড়ানো হয়। সেই থেকে দিনটিকে ঘিরে উৎসব আনন্দে মেতে ওঠেন পুরান ঢাকার মানুষেরা। ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ না রেখে সবাই এই উৎসবে শামিল হন।


এমএল/