‘বিমান বাহিনীর গুলিতেই মারা গেছে নাহিদ’


Janobani

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮:১৬ অপরাহ্ন, ৪ঠা মার্চ ২০২৫


‘বিমান বাহিনীর গুলিতেই মারা গেছে নাহিদ’
ছবি: প্রতিনিধি

কক্সবাজার শহরে বিমানবন্দর পশ্চিমে বিমান বাহিনীর সদস্যদের সাথে স্থানীয় এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় শিহাব কবির নাহিদ নিহতের ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে। 


ঘটনার এক সপ্তাহ পরে ৩ মার্চ (সোমবার) রাতে নিহতের পিতা মো. নাসির উদ্দিন বাদি হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।


আরও পড়ুন: কক্সবাজারে বিমান বাহিনীর সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১ : আহত ৬


মামলার এজাহারে আসামি হিসেবে কারও নাম উল্লেখ না থাকলেও শিহাব কবির নাহিদ নিহতের জন্য বিমান বাহিনীর সদস্যদের দায়ী করা হয়েছে।


এজাহারের একাংশে বলা হয়েছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২ টার দিকে স্থানীয় মহিউদ্দিন নামের এক যুবক বাদিকে অবহিত করেন বিমান বাহিনীর এক সদস্যের গুলিতে তাদের একমাত্র পুত্র সন্তান শিহাব কবির নাহিদ মারা গেছেন এবং মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে মরদেহটি দেখেন এবং ময়নাতদন্ত শেষে ধর্মীয় প্রক্রিয়ায় দাফন সম্পন্ন করেছেন।


বিমান বাহিনীর সদস্য বা অন্য কারও সঙ্গে শিহাব কবির নাহিদের কোন প্রকার বিরোধ নেই উল্লেখ করে এজাহারের অপর একটি অংশে বলা হয়েছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০ টায় স্থানীয় জাহেদুল ইসলাম নামের এক যুবককে বিমান বাহিনীর সদস্যরা ঘাটিতে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের খবরে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং জাহেদুলকে সারিয়ে আনতে গিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষ হয়। এক পর্যায়ে বিমান বাহিনীর সদস্য এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে। ওই সময় উচ্ছুক জনতার সাথে রাস্তায় কি হচ্ছে দেখতে বের হন শিহাব কবির নাহিদ। সমিতি পাড়ার নাঈমের বাসার সামনে আসলে শিহাব কবির নাহিদের মাথায় গুলি লাগে। এতে আহত নাহিদকে বিমান বাহিনীর সদস্যরা তুলে ঘাঁটিতে নিয়ে যায়। ওখানে দীর্ঘক্ষণ রক্তরক্ষণে মারা যান নাহিদ।


কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. ইলিয়াস খান জানিয়েছেন, নিহতের পিতা বাদি হয়ে দায়ের করা এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভূক্ত হয়েছে। এর আগে ১ মার্চ বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় আরও একটি মামলা করেছে বিমান বাহিনী। যেখানে দুই জনের নাম উল্লেখ করে ২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।


তবে নাম উল্লেখ দুই জনের নাম পরিচয় জানাননি তিনি।


তবে বিমান বাহিনীর পক্ষে দায়ের করা এজাহারে দেখা গেছে সার্জেন্ট মো. জিয়াউর হক বাদি হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছেন। যেখানে আসামি হিসেবে অভিযুক্ত রয়েছেন, রাহাত ইকবাল ওরফে ইকবাল বাহার ও এজাবত উল্লাহর নাম। দুইজনই সমিতি পাড়ার বাসিন্দা।


এজাহারে বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলায় ৪ সদস্য আহত এবং সরকারি গাড়ি ও সম্পদ ভংচুর করার কথা উল্লেখ রয়েছে।



গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার শহরে বিমানবন্দর পশ্চিমে বিমান বাহিনীর সদস্যদের সাথে স্থানীয় এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় গুলিবর্ষণে এক যুবক নিহত এবং অনন্ত ১৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩ জন বিমান বাহিনীর সদস্যও ছিলেন।


নিহত শিহাব কবির নাহিদ (৩০) একই এলাকার নাছির উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ি।


ঘটনা সম্পর্কে আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল,  “কক্সবাজারে অবস্থিত বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজার সংলগ্ন সমিতিপাড়ার কিছু স্থানীয় দুর্বৃত্ত সোমবার বিমান বাহিনী ঘাঁটির উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। বিয়াম স্কুলের পাশে বিমান বাহিনীর চেকপোস্ট হতে একজন স্থানীয় লোকের মটর সাইকেলের কাগজপত্র না থাকায় বিমান বাহিনীর প্রভোস্ট কর্তৃক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘাঁটির অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় সমিতি পাড়ার আনুমানিক দুই শতাধিকেরও বেশি স্থানীয় লোকজন বিমান বাহিনীর ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হলে বিমান বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে বাঁধা দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে বিমান বাহিনীর চেকপোস্ট এলাকায় বিমান বাহিনীর সদস্য ও সমিতি পাড়ার কতিপয় দুষ্কৃতকারী লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে কতিপয় কুচক্রী মহলের ইন্ধনে দুর্বৃত্তরা বিমান বাহিনীর সদস্যদের উপর ইট পাটকেল ছুড়ে। এসময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে কয়েকজন আহত হন যার মধ্যে বিমান বাহিনীর ৪ জন সদস্য (১ জন অফিসার ও ৩ জন বিমানসেনা) আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং শিহাব কবির নাহিদ নামের এক যুবককে গুরুতর আহত অবস্থায় বিমান বাহিনীর গাড়িতে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন।


আরও পড়ুন: কক্সবাজারে বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে দুর্বৃত্তদের হামলা


রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার্থে বিমান বাহিনীর সদস্যগণ কর্তৃক বিমান বাহিনীর Rules of Engagement অনুয়ায়ী ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়, তবে স্থানীয় জনসাধারণের উপর কোন প্রকার তাজা গুলি ছোড়া হয়নি। বিমান বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’


এসডি/