কক্সবাজারে বিমান বাহিনীর সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১ : আহত ৬
জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩:২৩ অপরাহ্ন, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫

কক্সবাজার শহরে বিমানবন্দর পশ্চিমে বিমান বাহিনীর সদস্যদের সাথে স্থানীয় এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গুলিবর্ষণে এক যুবক নিহত এবং অনন্ত ৬ জন আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে দুর্বৃত্তদের হামলা
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২ টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার সমিতি পাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত শিহাব কবির নাহিদ (৩০) একই এলাকার নাছির উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ি। তবে আহতদের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনায় একজন নিহত এবং ৬ জন চিকিৎসাধীন থাকার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের পুলিশ বক্সের কর্তব্যরত ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম।
সমিতি পাড়ার বাসিন্দা মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, সোমবার দুপুরে বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য এলাকাবাসীকে অন্যত্রে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে বিমান বাহিনী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং এলাকাবাসীর প্রতিনিধিদের সাথে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকের সময় নির্ধারণ ছিল।
এ লক্ষ্যে বেলা ১২ টার দিকে সমিতি পাড়ার বাসিন্দা জনৈক মো. জাহিদ হোসেনসহ আরও কয়েকজন ইজিবাইক ও মোটর সাইকেল যোগে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে আসছিল। তাদের বহনকারি গাড়ীটি ডায়াবেটিক পয়েন্ট এলাকাস্থ বিমান বাহিনীর চেকপোস্টে পৌঁছালে থামানো হয়। এসময় জাহেদ হোসেনের হেলমেট পরা নিয়ে কর্তব্যরত বিমানবাহিনীর সদস্যদের সাথে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে খবর পেয়ে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। এসময় এলাকাবাসী জাহেদকে নিয়ে যেতে বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, এসময় বিমানবাহিনীর নির্মাণাধীন ঘাঁটি ও সদস্যদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। থেমে থেমে আধা ঘণ্টা ধরে চলা ওই পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। তাতে গুলিবিদ্ধ হন শিহাব কবির নাহিদ। স্থানীয় লোকজন শিহাবকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, এঘটনায় একজন নিহত ও আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ঘটনার সুত্রপাত কিভাবে তা উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে কথা বলতে আইএসপিআর এর সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানিয়েছেন, বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজার সংলগ্ন সমিতি পাড়ার কিছু দুর্বৃত্ত বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. ইলিয়াস খান বলেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। ঘটনাস্থলে ৫০-৬০ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল আরোহী একজনকে বিমানবাহিনীর তল্লাশিচৌকিতে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
১ নম্বর ওয়ার্ডের অপসারিত কাউন্সিলর আকতার কামাল বলেন, স্থানীয় কুতুবদিয়া পাড়ার জাহেদ নামের মোটরসাইকেল আরোহী এক তরুণের হেলমেট না পরার ঘটনা নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গুলিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত শিহাবের বাবা নাছির উদ্দিন কক্সবাজার পিটিআইয়ের সাবেক সুপার। মা আমেনা খাতুন কক্সবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে কয়েক বছর আগে অবসর গ্রহণ করেন। থাকেন সমিতিপাড়ায়। গুলিতে ছেলের মৃত্যু হয়েছে দাবি করে আমেনা খাতুন বলেন, ইটপাটকেল নিক্ষেপের সময় ছেলে (শিহাব) ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি গুলি মাথায় এসে লাগে। গুলিতে মাথার খুলি উপড়ে মগজ বেরিয়ে আসে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সাবোক্তগীন মাহমুদ বলেন, দুপুরে হাসপাতালে আনার কয়েক মিনিটের মধ্যে শিহাবের মৃত্যু হয়েছে। আঘাতে তাঁর মাথার পেছনের অংশ (খুলি) উড়ে গেছে। গুলিতে নাকি ইটপাটকেলের আঘাতে মাথায় জখম হয়েছে, তা এখন নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১৯ খাল সংস্কারের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হবে: রিজওয়ানা হাসান
কক্সবাজার বিমানবন্দরে সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়া পাড়াসহ ১৯টি গ্রাম-মহল্লা নিয়ে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড। ৭০ হাজার বাসিন্দার ৯০ শতাংশ জলবায়ু উদ্বাস্তু। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ঘরবাড়ি হারিয়ে কুতুবদিয়া, পেকুয়া, মহেশখালীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাসজমিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নেন। কয়েক বছর ধরে কিছু এলাকায় বিমান ঘাঁটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব জায়গা থেকে উচ্ছেদ হওয়া লোকজনের জন্য তিন কিলোমিটার দূরে খুরুশকুলে ১৩৭টি পাঁচতলা ভবনের বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। দুই বছর আগে ২০টি ভবনে ৬০০ পরিবারের ঠাঁই হয়েছে। এখন আরও ৮৫টি ভবন প্রস্তুত করা হয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি সকালে ১ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানান।
এসডি/