Logo

যে বৈশাখ কেড়ে নিয়েছিল শত প্রাণ, সেই কাঞ্চনপুর ট্র্যাজেডির দিন আজ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
নেত্রকোণা
১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮:৩৭
যে বৈশাখ কেড়ে নিয়েছিল শত প্রাণ, সেই কাঞ্চনপুর ট্র্যাজেডির দিন আজ
ছবি: সংগৃহীত

আজ ১৪ এপ্রিল—নেত্রকোনার মৌগাতি ইউনিয়নর কাঞ্চনপুর এলাকার সেই ভয়াবহ দিনের স্মরণে ‘কাঞ্চনপুর ট্র্যাজেডি দিবস’। ২০০৪ সালের এই দিনটি ছিল পয়লা বৈশাখ। গোধূলি লগ্নে মাত্র এক মিনিটের এক ভয়ংকর টর্নেডোতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় নেত্রকোনা ও আশপাশের অন্তত ২৫টি গ্রাম। প্রাণ হারান শতাধিক মানুষ। নিহতদের মধ্যে ছিল শিশু, নবদম্পতি এমনকি কনে দেখতে আসা পাত্রপক্ষের লোকজনও।

বিজ্ঞাপন

ঝড়ের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, কাঞ্চনপুরের ভাওয়াল বিলের পানি উঠে গিয়ে আশপাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। বিলের মাছ পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়ে। এক গ্রামের মানুষের লাশ পাওয়া যায় অন্য গ্রামে। এমনকি উদ্ধার করা হয় মস্তকবিহীন অজ্ঞাত লাশও। চারদিকে তখন শুধুই আহাজারি আর স্বজন হারানোর আর্তনাদ। মুহূর্তেই ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে যায়। সেই দুর্যোগের সময় সরকারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ছুটে এসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ায়।

এ ট্র্যাজেডির সঙ্গে জড়িয়ে আছে কিছু অবিশ্বাস্য ঘটনাও। ২২ বছর পর কাঞ্চনপুর ও আশপাশের গ্রামগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, লোকজন সেই ভয়াবহ দিনের কথা ভোলেনি। সেই সময় ঘূর্ণিঝড়ে গুরুতর জখম হন কাঞ্চনপুর গ্রামের জয়নাল মিয়া। তিনি বলেন, ঝড়ে আহত হয়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। জ্ঞান ফেরার পর দেখতে পান, তিনি ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঐ সময়ের ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি আহত লোকদের ট্রাকে তুলেছেন। কে জীবিত আর কে মৃত তা বুঝতে পারছিলেন না।

কাঞ্চনপুরের বাসিন্দা চান মিয়া ও আবুল হাসেম বলেন, সেই ঝড়ের ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন অনেক আগেই মুছে গেছে। গ্রামে পাকা সড়ক হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ এসেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হয়েছে। কিন্তু মানুষের মনে সেই দিনের ক্ষত এখনো তাজা।

বিজ্ঞাপন

গ্রামের বাসিন্দা হেলাল মিয়া বলেন, এখনো পশ্চিম আকাশে কালো মেঘের সঙ্গে লাল আভা দেখলে বুক কেঁপে ওঠে। মনে হয়, আবার বুঝি ফিরে আসছে সেই ভয়াল সন্ধ্যা।

কাঞ্চনপুর গ্রামের লাল মিয়া বলেন, তারা এখন যে কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম। দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই বেঁচে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতি বছরের মতো এবারও দিনটি ‘কাঞ্চনপুর ট্র্যাজেডি দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। মসজিদ ও মন্দিরে দোয়া, মিলাদ ও প্রার্থনার মাধ্যমে স্মরণ করা হচ্ছে নিহতদের।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD