৯ লাখ টাকা পেনশন দিয়ে ইমামকে রাজকীয় বিদায়
উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬:১০ অপরাহ্ন, ২রা এপ্রিল ২০২৫

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নতুন কহেলা জামে মসজিদের ইমাম ও খতীবকে তিন যুগ ধরে ইমামতি শেষে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া,ইমামকে এককালীন পেনশন হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৯ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের নতুন কহেলা গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
জানা যায়,১৯৯১ সালে মাওলানা মোহাম্মদ শাজাহান খান নতুন কহেলা জামে মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে নিযুক্ত হন।এরপর থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দীর্ঘ ৩৪ বছর ইমামতি করেন তিনি। গ্রামের প্রতিটি মানুষের সাথে গড়ে উঠে তার আত্মার নিবিড় সম্পর্ক।তার শেষ বয়সে এলাকাবাসী ইমামকে সম্মানিত করতে সজ্জিত ঘোড়ার বাহনে করে বিদায় দিয়েছেন।এছাড়া ঘোড়ার গাড়ি বহরের সঙ্গী হয়েছেন অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল। গ্রামবাসীরা হাত নেড়ে ইমামের কর্মজীবনের শেষ বিদায় জানান।
১৯৯১ সালে যুবক বয়সে ৬০০ টাকা বেতন পাওয়া ইমামের বিদায়কালে বেতন হয় সাড়ে ১৭হাজার টাকা। তিনি মির্জাপুর উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের মৃত কুরবান আলীর ছেলে।তিনি ঢাকার লালবাগের একটি স্বনামধন্য মাদ্রাসা থেকে মাওলানা পাস করেন। পরে তিনি নতুন কহেলা গ্রামের ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।তার মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সে সময়ে ৬০০ টাকা বেতন ধার্য্য করা হয়। তিনি দীর্ঘ ৩৪ বছরের ইমামতি পেশায় থাকাকালীন এলাকায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। ফলে তার বিদায় বেলায় এককালীন পেনশন দেওয়া হয়েছে ৯ লাখ ৩ শত টাকা।
২০২৪ সালে গ্রামের পক্ষ থেকে এই ইমামকে ওমরাহ হজ্বে পাঠানো হয়।এ ছাড়া,গ্রামের মানুষ বিভিন্ন রকমের উপহার দিয়ে তাকে বিদায় জানান।তার বিদায়ে সফরসঙ্গী হয়ে গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ ৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ইমামের নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসেন।এমন বিদায় জানাতে পেরে খুশি স্থানীয়রাও।এমন ব্যতিক্রমী বিদায়ে এলাকাবাসীর ভালোবাসার কাছে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে কৃতজ্ঞতা জানান ইমাম।
বিদায় সংবর্ধনা পাওয়া ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শাজাহান খান বলেন,আমি গ্রামের প্রায় ১ হাজার মানুষের জানাজা পড়িয়েছি। ৬০০ জনকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছি। আল্লাহর রহমতে আমি কাজগুলো করতে পেরেছি, এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার বিদায় বেলায় এলাকার মানুষ এত বড় আয়োজন করেছে তার জন্য এলাকার মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
ওই গ্রামের বাসিন্দা আবুল হাশেম খান বলেন, ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শাজাহান খান তার চাকরি জীবনে গ্রামের মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এই ইমামের প্রতি গ্রামবাসীর যে গভীর ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ জনশ্রুতের মাধ্যমেই তাহা বুঝা যায়।
মসজিদ কমিটির সভাপতি সেলিম খান বলেন,এমন বিদায় সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।তিনি এলাকার মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন।ইমামের পরবর্তী জীবন ভালো কাটতে সরকারি চাকুরীর মত পেনশন দেওয়া হয়েছে।
জেবি/ এজে