সিন্ডিকেটের বাধায় অ্যাম্বুলেন্স আটকে থেকে প্রাণ গেল নবজাতকের


Janobani

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২:১৫ পিএম, ১৫ই আগস্ট ২০২৫


সিন্ডিকেটের বাধায় অ্যাম্বুলেন্স আটকে থেকে প্রাণ গেল নবজাতকের
ছবি: প্রতিনিধি

সালাউদ্দিন রুপম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বাঁধার মুখে জেলার বাইরের একটি অ্যাম্বুলেন্স রোগী নিয়ে ঢাকা যেতে না পারায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। 


বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাতটার দিকে শরীয়তপুর জেলা শহরে এ ঘটনা ঘটে। 


এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজন ও সাধারণ মানুষ।   


পুলিশ ও শিশুর স্বজন সুত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ছাতিয়ানি গ্রামের ইলেকট্রিশিয়ান নূর হোসেন সরদারের স্ত্রী রুমা বেগমকে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে শরীয়তপুর জেলা শহরের মেট্রো ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। বেলা ৩টার সময় সিজারের মাধ্যমে রুমা বেগমের একটি পুত্র সন্তান জন্ম হয়। জন্মের পরই রুমার নবজাতক সন্তানের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিলে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।


সদর হাসপাতালের এক ঘণ্টা অক্সিজেনসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসক শিশুটিকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুটিকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে নেওয়ার জন্য স্বজনরা ৫ হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। অ্যাম্বুলেন্সটি ঐ দিন বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা থেকে রোগী নিয়ে শরীয়তপুর এসেছিলেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে নবজাতক শিশুটিকে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্য অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন স্বজনরা। 


অ্যাম্বুলেন্সটি যখন ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে তখনই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় শরীয়তপুরের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্র। ঢাকার অ্যাম্বুলেন্স হওয়ায় চক্রটি রোগী নিয়ে ঢাকা যেতে দিবেন না। চক্রটি অ্যাম্বুলেন্সের চাবি কেড়ে নেয় এবং ড্রাইভারকে মারধর করে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখে। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে না পারায় অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই নবজাতক শিশুটি মারা যায়। 


নবজাতক শিশুটির নানা হারেছ বেপারী অভিযোগ করে বলেন, বেলা ৩টার সময় সিজারে আমার নাতির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই শ্বাসকষ্টের কারণে আমার নাতিকে সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। সেখানে কিছুক্ষণ চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসক আমার নবজাতক নাতিকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। হাসপাতালের সামনে এক লোক ৫ হাজার টাকায় একটা অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দেয়। সন্ধ্যার সময় আমার নাতিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ভাড়া করা ঐ অ্যাম্বুলেন্সে উঠি। অ্যাম্বুলেন্সটি ছেড়ে যাবে এমন সময় স্থানীয় কিছু লোক বাঁধা দেয়। তারা বলে ওই অ্যাম্বুলেন্সে করে যেতে পারবো না, তাদের অ্যাম্বুলেন্সে যেতে হবে। তারা গাড়ির চাবি কেড়ে নিয়ে যায় এবং ড্রাইভারকে মারধর করে। প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখায় অ্যাম্বুলেন্সটি ছেড়ে যেতে না পারায় আমার নাতি মারা যায়। আমি এই জুলুমের বিচার চাই। 


অ্যাম্বুলেন্সটির ড্রাইভার মোশারফ নিয়ে বলেন, আমার ঢাকার গাড়ি। আমি বিকাল তিনটার দিকে এক রোগী নিয়ে শরীয়তপুরে এসেছিলাম। এক নবজাতক শিশুকে ঢাকা শিশু হাসপাতলে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বজনরা আমার গাড়ি ভাড়া করে। শিশুর স্বজনরা শিশুটিকে নিয়ে গাড়িতে ওঠার পর আমি গাড়ি স্টার্ট করি। এ সময় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীরা আমাকে রোগী নিয়ে ঢাকা যেতে বাঁধা দেয়। তারা আমার গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেয় এবং আমাকে মারধর করে এক ঘন্টা গাড়ি আটকে রাখে। এতে গাড়ির মধ্যেই শিশুটি মারা যায়। 


পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, ঢাকার গাড়ি হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গাড়িটি আটকে রাখায় একজন রোগী মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।                    


জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলা শহরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে শরীয়তপুরের মানুষ। এই সিন্ডিকেট রোগীদের জিম্মি করে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করে থাকেন। এমনকি এই সিন্ডিকেটের বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স জেলা থেকে রোগ নিয়ে ঢাকা যেতে পারেন না। ঢাকা থেকে রোগী নিয়ে আসা কোনো অ্যাম্বুলেন্সও যদি শরীয়তপুর থেকে রোগী নিয়ে ঢাকা যাওয়ার চেষ্টা করেন তাহলে তাকে হেনস্থার শিকার হতে হয়। 

এসএ/