রমজান সামনে রেখে বাড়ছে ছোলা-চিনির দাম, স্বস্তি পেঁয়াজ ও ডিমে

রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র এক মাস বাকি। তবে তার আগেই বাজারে বাড়তি চাপ পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের দামে। বিশেষ করে রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে, সেগুলোর দাম এখনই ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে ছোলা ও চিনির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকলেও পাইকারি বাজারে ছোলা ও চিনির দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ রমজানকে কেন্দ্র করে বাড়তি মুনাফার সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিক্রেতারা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও এই পণ্য ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল। রামপুরা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী এনামুল হক জানান, পাইকারি বাজারেই দাম বাড়ানো হয়েছে, ফলে খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
একই পরিস্থিতি দেখা গেছে চিনির বাজারেও। বাজারে চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়ছে। এক মাস আগেও প্যাকেটজাত চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে সব কোম্পানির প্যাকেটজাত চিনির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৫ টাকা। আর খোলা চিনি এখন প্রতি কেজি ১১০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে ক্রেতা আল আমিন বলেন, “রমজান এলেই কিছু পণ্যের দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছরই এমনটা দেখা যায়।”
বিজ্ঞাপন
তবে সব পণ্যে ঊর্ধ্বগতি নেই। ভরা মৌসুমের কারণে দেশি পেঁয়াজের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বর্তমানে নতুন দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। যদিও ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ এখনো ৭০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারেও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। সপ্তাহখানেক আগে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বাড়লেও এখন সেই দামেই স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, ফার্মের মুরগির ডিমের দামে এখনো কোনো বৃদ্ধি নেই। বরং দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। বাজারে বাদামি ডিম প্রতি ডজন ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া শীতকালীন সবজির দামও কিছুটা কমেছে। ফুলকপি এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং নতুন আলু ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং টমেটো ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে রমজানের আগে ছোলা ও চিনির দামে বাড়তি চাপ তৈরি হলেও পেঁয়াজ, ডিম ও কিছু সবজির দামে স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।








