রাজধানীতে সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে ১০–১৫ টাকা

রাজধানীর খুচরা বাজারে মুরগির দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে মুরগির বাজারে দাম বাড়লেও গরু ও খাসির মাংসের দামে আপাতত কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, শীত মৌসুমে বিয়েশাদি, পিকনিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ায় মুরগির চাহিদা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও যা ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে ছিল। একই সময়ে সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। আগে যেখানে কেজিপ্রতি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, সেখানে এখন তা ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায় উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
বিক্রেতারা বলছেন, বড় কোনো সরবরাহ সংকট না থাকলেও শীতের কারণে খামার পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। পাশাপাশি মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে পাইকারি বাজারেই দাম বাড়তি রয়েছে, যা খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, মাংসের বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কিছু মাছের দামে সামান্য বৃদ্ধি হয়েছে। মাঝারি আকারের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। তেলাপিয়া মাছের দাম ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। পাবদা ৪০০ টাকা, টেংরা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, বোয়াল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চিংড়ি মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাঙাশ ও সিলভার কার্পসহ বেশ কিছু চাষের মাছের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি।
বিজ্ঞাপন
ডিমের বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। এক ডজন ডিম আগের মতোই ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, শীত মৌসুমে শাকসবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের চাহিদা কম থাকে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম ৮ টাকার নিচে থাকলেও খুচরা বাজারে বিক্রি কম হওয়ায় দাম আর কমছে না।
বাজার করতে আসা চাকরিজীবী রাশেদ মাহমুদ বলেন, মুরগি ও কিছু মাছের দাম বাড়ায় সাপ্তাহিক বাজারের খরচ আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। বনশ্রী এলাকার গৃহিণী শাহানা বেগমের আশঙ্কা, সামনে রমজান এলে মুরগির দাম আরও বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের জন্য চাপ বাড়াবে।
বিজ্ঞাপন
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে চাহিদা যদি আরও বাড়ে, তাহলে মুরগির বাজারে দাম কমার সম্ভাবনা আপাতত নেই।








