ঈদ উৎসবের আমেজে বেড়েছে প্রবাসী আয়

পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রস্তুতি ও উদযাপনকে সামনে রেখে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি মার্চের প্রথম ১১ দিনে বাংলাদেশে এসেছে ১৯২ কোটি মার্কিন ডলার, যা গড়ে প্রতিদিন ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের সমান।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে মার্চে দেশে ১৩৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ফলে বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত দেশে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এটি ২৩.২০ শতাংশের ঊর্ধ্বগতি প্রদর্শন করে।
বিজ্ঞাপন
ব্যাংক কর্মকর্তা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা তাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের কাছে প্রচুর অর্থ পাঠাচ্ছেন, যা রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বা অর্থনৈতিক অস্থিরতা এই প্রবাহে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে।
গত কয়েক মাসের রেমিট্যান্স প্রবাহও উল্লেখযোগ্য। ফেব্রুয়ারিতে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার, জানুয়ারি মাসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহিত হয়েছে। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে ডিসেম্বরে আসা ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
গত বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাসিক রেমিট্যান্স ছিল যথাক্রমে: আগস্ট ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার, এবং নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।
বিজ্ঞাপন
এ দিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য দেশে প্রবাসীরা মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে কোনো অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বগতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার যোগান শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ঈদের সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার ফলে দেশের অর্থনীতিতে নগদ লেনদেন ও ভোগের ক্রমও বৃদ্ধি পায়, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক খাতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।








