আকাশছোঁয়া দামে অস্থির ঈদ বাজার, দিশেহারা সাধারণ মানুষ

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সুগন্ধি চাল, সেমাই, চিনি, দুধ ও বিভিন্ন ধরনের মসলার দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। অনেকেই বলছেন, ঈদের কেনাকাটায় বাজারে গিয়ে দামের চাপে যেন “মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে”।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে সুগন্ধি চাল, সেমাই ও মসলা জাতীয় পণ্য। বাড়তি চাহিদার কারণে এসব পণ্যের প্রায় সবগুলোর দামই হঠাৎ করে বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যহীনতার কারণে দাম ঊর্ধ্বমুখী।
সুগন্ধি চালের বাজারে গত কয়েকদিনেই বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। খোলা ও প্যাকেটজাত চাল কিনতে এখন কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। বাজারে কালিজিরা ও চিনিগুঁড়া চাল কোম্পানিভেদে প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে খোলা সুগন্ধি চালের দাম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
বিজ্ঞাপন
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সুগন্ধি চালের বর্তমান খুচরা মূল্য কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। শুধু গত এক মাসেই এই পণ্যের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে বলে জানা গেছে।
ঈদের অপরিহার্য উপকরণ সেমাইয়ের বাজারেও দেখা গেছে অস্থিরতা। বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মানভেদে ২০০ গ্রাম সেমাই ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাইয়ের দাম ২৮০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অন্যদিকে ৫০০ গ্রাম প্যাকেটজাত সেমাইয়ের দাম ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। খোলা লম্বা সেমাইয়ের কেজি ৯০ টাকা এবং লাচ্ছা সেমাইয়ের কেজি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
চিনির বাজারেও ঈদের আগে দাম কিছুটা বেড়েছে। আমদানি করা চিনি এখন প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রোজার শুরুতে ছিল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। দেশি চিনির দাম দাঁড়িয়েছে ১৪০ টাকায়।
যদিও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চিনির দাম কিছুটা কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কেজিপ্রতি প্রায় ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
মসলার বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলাচ, যার খুচরা মূল্য কেজিপ্রতি প্রায় ৫ হাজার টাকা। এছাড়া দারুচিনি ৫৬০ থেকে ৬০০ টাকা, জয়ত্রি প্রায় ৪ হাজার টাকা এবং জায়ফল প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লবঙ্গের দাম ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, জিরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, ধনিয়া ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং তেজপাতা ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে শুকনো ফলের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। কিশমিশ, আলুবোখারা, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও পেস্তাবাদামের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে, যা ঈদের রান্না ও মিষ্টান্ন প্রস্তুতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করছে।
আরও পড়ুন: ঈদের আগে আবার কমল সোনার দাম
এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে খোলা তেলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ২১৫ থেকে ২২০ টাকায় পৌঁছেছে। এতে ভোক্তাদের খরচ আরও বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। পেঁয়াজ, আলু, টমেটো, শসা ও বেগুনসহ বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। বর্তমানে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা ৩৫ থেকে ৫০ টাকা এবং বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। তবে ঈদের আগে লেবুর দাম কিছুটা বেড়ে প্রতিহালি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ঈদকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের বাজারে একদিকে যেমন ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে, অন্যদিকে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তাদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এবারের ঈদের বাজার সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








