Logo

অটোমেটেড সিস্টেমে ভ্যাট অডিট, এনবিআরের নজরে ৬০০ প্রতিষ্ঠান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:১১
অটোমেটেড সিস্টেমে ভ্যাট অডিট, এনবিআরের নজরে ৬০০ প্রতিষ্ঠান
ছবি: সংগৃহীত

ভ্যাট অডিট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন চালু হওয়া অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মডিউলের মাধ্যমে প্রথম ধাপে দেশের বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ৬০০টি প্রতিষ্ঠানকে অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে উৎপাদন খাতের ৪০৫টি, সেবাখাতের ৯৮টি, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসার ৬৫টি এবং আমদানি-রপ্তানিকারক ৩২টি প্রতিষ্ঠান। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে পারছেন না।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অডিটের জন্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এখন আর ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে না। ডিজিটাল সিস্টেম নিজেই বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করছে। এর ফলে অডিট কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনিয়ম বা হয়রানির সুযোগ কমে আসবে।

বিজ্ঞাপন

এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ বলেন, করদাতা ও বিভিন্ন অংশীজনের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অডিট প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে অডিটযোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে মানবিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।

নতুন ব্যবস্থায় ই-ভ্যাট সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি), পয়েন্ট অব সেল (POS) মেশিন এবং কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা সিস্টেম থেকে প্রাপ্ত তথ্য একত্রিত করে বিশ্লেষণ করা হয়। বিক্রয়, ক্রয়, ইনপুট ভ্যাট ও আউটপুট ভ্যাটের তথ্য মিলিয়ে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হয়। এরপর অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ করদাতাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অডিটের জন্য চিহ্নিত করা হয়।

এনবিআর আরও জানিয়েছে, তাদের অটোমেটেড সিস্টেমে ২০টি নির্দিষ্ট ঝুঁকি সূচক (risk indicators) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব সূচকের মাধ্যমে করদাতাদের তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ভ্যাট ফাঁকি বা গরমিল শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। যেমন হঠাৎ বিক্রয় কম দেখানো, অস্বাভাবিক ইনপুট ভ্যাট দাবি করা বা পূর্বের তুলনায় বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেলে সেগুলো সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত করে।

বিজ্ঞাপন

কর্তৃপক্ষের মতে, এই ডিজিটাল অডিট ব্যবস্থার মাধ্যমে ভ্যাট প্রশাসনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। অডিট শেষে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ঝুঁকি সূচকগুলো আরও উন্নত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এনবিআর আশা করছে, এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ফলে ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে এবং রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিক, করদাতাবান্ধব ও দক্ষ রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই অটোমেশন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

তালিকাটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD