নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করেই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি

সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে বাজারে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির এলপিজির দাম এক হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করলেও বাস্তবে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে আরও বেশি।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দোকানভেদে দামের কিছু পার্থক্য থাকলেও কোথাও সরকারি দামে বিক্রি হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: আজকের মুদ্রা দর : ৩ এপ্রিল ২০২৬
বিইআরসি ঘোষিত নতুন দামে আগের মাসের তুলনায় ৩৮৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বাজারে এর কোনো প্রতিফলন না থাকায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। শুধু ১২ কেজিই নয়, অন্যান্য ওজনের সিলিন্ডারেও বাড়তি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ভোক্তারা বলছেন, আগে থেকেই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছিল। নতুন করে দাম বাড়ার পর বিক্রেতারা সেই সুযোগে আরও বেশি দাম নিচ্ছেন। ফলে মাসিক গ্যাস খরচ বেড়ে গেছে।
ধানমন্ডির বাসিন্দা নিহাল হোসেন বলেন, আগে যেখানে ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকায় সিলিন্ডার পাওয়া যেত, এখন সেখানে ২২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। সরকারি দামে কোনো সময়ই এলপিজি পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ সংকট, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডিলার পর্যায়ে বেশি দামে কেনার কারণে খুচরা বাজারে দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। তাদের মতে, নির্ধারিত দামে পণ্য না পাওয়ায় বেশি দামে বিক্রি ছাড়া বিকল্প নেই।
বিজ্ঞাপন
হাতিরপুল এলাকার এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, ১২ কেজির সিলিন্ডার তারা ২১০০ টাকায় বিক্রি করছেন, কারণ তারাও বেশি দামে কিনছেন। একইভাবে টঙ্গী এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, সরকারি দাম বাড়ার পর থেকেই তাদের ক্রয়মূল্য বেড়েছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম বেশি রাখতে হচ্ছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে কার্যকর তদারকির অভাবেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা ও কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।








