Logo

হঠাৎ বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:০৫
হঠাৎ বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন
ছবি: সংগৃহীত

কয়েকদিন ধরে টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বিশ্ববাজারে হঠাৎ বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে সোনার দামে। এই পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের বাজারেও।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, স্পট মার্কেটে সোনার দাম এক লাফে ২ দশমিক ৮ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে। এতে প্রতি আউন্স সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬২২ দশমিক ৫৯ ডলারে। দিনের শুরুতে দাম ৪ শতাংশেরও বেশি কমে যাওয়ার পর টানা চার দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থেমে গেছে। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৪৯ ডলারে নেমে এসেছে।

এই পতনের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি প্রাইম-টাইম ভাষণকে। ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরও আগ্রাসী হামলা চালাবে এবং সংঘাতে তাদের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। যুদ্ধবিরতির আশায় থাকা বিনিয়োগকারীরা এই মন্তব্যে হতাশ হয়ে পড়েন, যা সোনার দামের ওপর তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি করে।

বিজ্ঞাপন

ক্যাপিটাল ডট কমের সিনিয়র বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, ট্রাম্পের এই ভাষণ এবং সপ্তাহান্তে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা সরাসরি সোনার বাজারে প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে তেলের দাম, মার্কিন ডলারের মূল্য এবং সুদের হার বেড়ে গেছে, যা সোনার মতো নিরাপদ আশ্রয়ের সম্পদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।

এছাড়া, ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড এবং ডলার সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ডলার-নির্ভর সোনাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ইঙ্গিত দেওয়ার পর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়, যা সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসে সোনার দাম ১১ শতাংশ কমেছে, যা ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতন। তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা আবার জোরালো হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতিকে জটিল করে তুলছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে ২০২৬ সালের বেশিরভাগ সময়জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে এসেছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের আগে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ২৫ শতাংশ ছিল, যা এখন কমে ১২ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিশ্ববাজারে এই দরপতনের কারণে দেশের বাজারেও সোনার দাম কমতে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ে। ফলে যেকোনো সময় দেশীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, সবশেষ গত ১ এপ্রিল সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম কার্যকর হয়েছে সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

সে অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে এখন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক সূচকের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে সোনার দামের এই ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। বিনিয়োগকারীদের এই পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD