Logo

চাপের মধ্যে অর্থনীতি, ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে আগামীর বাজেট

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮:১০
চাপের মধ্যে অর্থনীতি, ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে আগামীর বাজেট
ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা এবং উৎপাদন প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায় আসন্ন জাতীয় বাজেটকে ঘিরে অর্থনীতিতে নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবও দেশের অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে বাজেটকে দরিদ্রবান্ধব করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগবান্ধব করনীতি প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সূচকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাজেট বাস্তবায়ন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে ব্যয়ের কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, উন্নয়ন খাতের তুলনায় বেতন-ভাতা, ভর্তুকি ও ঋণ পরিশোধসহ পরিচালন ব্যয়ই বেশি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর—এই ছয় মাসে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর একটি বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে ঋণ পরিশোধে, যা আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে স্বল্প ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার মতে, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা না গেলে উৎপাদন, প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।

বাজেটে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। এর মধ্যে রয়েছে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, আগামী ১৮ মাসে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য থাকলেও তা অর্জনের জন্য বিনিয়োগে বড় ধরনের গতি প্রয়োজন। অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে নিতে হলে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশে উন্নীত করতে হবে, যেখানে বর্তমানে প্রবৃদ্ধি অনেক কম।

অন্যদিকে আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিও চাপের মধ্যে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে আছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যের চেয়ে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা কম হয়েছে। এতে বাজেট বাস্তবায়নে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক খাত দুর্বল থাকলে বিনিয়োগ, ঋণপ্রবাহ এবং বেসরকারি খাতের উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে না। একইসঙ্গে রাজস্ব ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাও বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ড. মাহফুজ কবীর আরও বলেন, রাজস্ব সংগ্রহে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি, যা বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আসন্ন বাজেটকে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD