যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক খাদ্যবাজারে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় (ফ্রেট কস্ট) বেড়ে যাওয়ায় গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে (এফএও)।
বিজ্ঞাপন
সংস্থাটির প্রকাশিত সর্বশেষ খাদ্যমূল্য সূচক অনুযায়ী, মার্চে বৈশ্বিক খাদ্যের দাম বেড়েছে ২.৪ শতাংশ। এর মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো ঊর্ধ্বমুখী থাকল এই সূচক। এর আগে টানা পাঁচ মাস কমার পর ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো দাম বাড়তে শুরু করে।
এফএওর হিসাব অনুযায়ী, শস্য, চিনি, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য এবং ভোজ্য তেলের দামের ওপর ভিত্তি করে এই সূচক নির্ধারণ করা হয়। মার্চে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে চিনির দাম—প্রায় ৭ শতাংশ। ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ এবং গমের দাম বেড়েছে ৪.৩ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে। জ্বালানি তেল, সার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বাড়ছে।
বিশ্বের মোট সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। চলমান অস্থিরতার কারণে এই নৌপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সার সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘের পূর্বাভাস বলছে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে গমের দাম বৃদ্ধির পেছনে যুদ্ধের পাশাপাশি প্রাকৃতিক কারণও ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রে খরা এবং অস্ট্রেলিয়ায় সারের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়া এর অন্যতম কারণ। তবে ইউরোপে ভালো ফলন এবং রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা কিছুটা হলেও মূল্যবৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
সূত্র : দ্য গাডিয়ান।








