Logo

মাত্র ১ কিলোমিটার দূরত্বে আকাশ-পাতাল পার্থক্য তরমুজের দাম

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:২৩
মাত্র ১ কিলোমিটার দূরত্বে আকাশ-পাতাল পার্থক্য তরমুজের দাম
ছবি: সংগৃহীত

প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণা মেটাতে তরমুজের চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ে, বিশেষ করে রমজান মাসে ইফতারির অন্যতম জনপ্রিয় ফল এটি। অথচ এবারের ভরা মৌসুমে রাজধানীর বাজারে তরমুজের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মাঠে বাম্পার ফলন থাকা সত্ত্বেও খুচরা বাজারে এই ফলের দামে যেন আগুন লেগেছে।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর সদরঘাট ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের মধ্যে রয়েছে বিস্ময়কর ফারাক। মাত্র এক কিলোমিটারের ব্যবধানে একই তরমুজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে, যা ভোক্তাদের মধ্যে প্রশ্ন তুলছে—এটি কি সিন্ডিকেটের কারসাজি, নাকি বাড়তি খরচের অজুহাত?

সদরঘাট এলাকায় খুচরা বিক্রেতারা বড় আকারের (১০-১২ কেজি) তরমুজ বিক্রি করছেন ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকায়। মাঝারি আকারের (৮-১০ কেজি) তরমুজের দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ছোট আকারের (৪-৭ কেজি) তরমুজ ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, কাছাকাছি বাদামতলীর পাইকারি আড়তে একই আকারের তরমুজ অনেক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে বড় তরমুজ ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা, মাঝারি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং ছোট তরমুজ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ, খুচরা বাজারে প্রতি পিসে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে বিভিন্ন কারণ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবহনের সময় অনেক তরমুজ নষ্ট হয়ে যায়, কিছু তরমুজের মান খারাপ থাকায় বিক্রি করা যায় না। এসব ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভালো তরমুজের দাম বাড়াতে হয়। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক খরচ ও দোকান ভাড়াও যুক্ত হয়।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি তরমুজ সংগ্রহ করে এনে আড়তে বিক্রি করেন এবং কমিশন হিসেবে নির্দিষ্ট শতাংশ নেন। তাদের মতে, বাজারে সরবরাহের ওপরই মূলত দামের ওঠানামা নির্ভর করে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, উৎপাদক পর্যায় থেকে জানা যায়, কৃষকদের কাছ থেকে বড় তরমুজ ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় কিনতে হয়। এরপর ঢাকায় আনতে পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচ যোগ হয়ে প্রতি পিসে আরও প্রায় ৩০ থেকে ৩২ টাকা খরচ হয়। এছাড়া শ্রমিক ও অন্যান্য ব্যয় যোগ করে পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ে।

এদিকে, খুচরা বাজারে উচ্চ দামের কারণে অনেক ক্রেতাই পুরো তরমুজ কিনতে পারছেন না। ফলে ফুটপাতে কাটা তরমুজের প্রতি ঝুঁকছেন তারা। বিক্রেতারা একটি তরমুজ ১৫ থেকে ২০ টুকরো করে প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করছেন। এতে কম খরচে তরমুজ খাওয়ার সুযোগ পেলেও এটি সাময়িক সমাধান বলেই মনে করছেন ভোক্তারা।

বিজ্ঞাপন

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পাইকারি ও খুচরা বাজারের এই বিশাল দামের পার্থক্য প্রমাণ করে যে মধ্যস্বত্বভোগীরাই বেশি লাভবান হচ্ছেন, আর ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি মূল্য।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা না হলে ভোক্তাদের এমন বাড়তি দামের চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD