বর্তমানে ১৩৮ দেশে ছড়িয়েছে বাংলাদেশের পাটপণ্য: পাটমন্ত্রী

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্প এখন বৈশ্বিক বাজারে আরও বিস্তৃত হচ্ছে। বর্তমানে দেশের পাটজাত পণ্য বিশ্বের ১৩৮টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া—প্রায় সব মহাদেশেই বাংলাদেশের পাটপণ্যের বাজার তৈরি হয়েছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, ব্রাজিলসহ বহু দেশ এখন নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ থেকে পাটজাত পণ্য আমদানি করছে। এ বিস্তৃত রপ্তানি বাজার দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: আজকের মুদ্রার দর : ৯ এপ্রিল ২০২৬
বিজ্ঞাপন
পাটপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে সরকারের নানা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন পাটমন্ত্রী। তিনি বলেন, জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) দেশের বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলা, সেমিনার ও ব্যবসায়িক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের পাটপণ্যের বহুমুখী ব্যবহার ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।
এছাড়া উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রপ্তানি প্রক্রিয়া, ডকুমেন্টেশন, সার্টিফিকেশন, পণ্য ও নকশা উন্নয়ন, গুণগত মান বৃদ্ধি এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ। এসব কার্যক্রমের ফলে পাটপণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।
রপ্তানির পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাটজাত পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৯ টন। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে ৪ লাখ ৯ হাজার ৩৬৬ টন পাটপণ্য। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরেও সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি অর্জনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: দেশে সোনা ও রুপার দামে বড় পতন, ভরি কত?
পাটশিল্পকে আরও আধুনিক ও টেকসই করতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলেও জানান তিনি। এর অংশ হিসেবে ঢাকা ও খুলনায় দুটি পাটপণ্য পরীক্ষাগার আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন সম্প্রসারণে সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাটের গুণগত মান উন্নত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। একই সঙ্গে রপ্তানিকারকদের উৎসাহিত করতে সরকার নগদ ভর্তুকি প্রদান করছে, যা পাটপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।








