ভারত থেকে তৃতীয় দফায় এলো আরও ৭ হাজার টন ডিজেল

দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনালে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল এসে পৌঁছেছে। চলতি মাসে এটি পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে তৃতীয় দফার জ্বালানি আমদানি।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের অপারেশন বিভাগের ব্যবস্থাপক কাজী রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়। প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ ঘণ্টা পর এই জ্বালানি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পৌঁছায়। এর আগে ১৯ এপ্রিল একই পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার টন ডিজেল দেশে আসে।
বিজ্ঞাপন
এই সর্বশেষ চালানসহ চলতি এপ্রিল মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ১৩ হাজার টন ডিজেল আমদানি হয়েছে। আর ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টন। এ মাসে চারটি চালানের মাধ্যমে মোট ২৫ হাজার টন ডিজেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১১ এপ্রিল ৮ হাজার টন এবং ১৯ এপ্রিল ৫ হাজার টন ডিজেল এসেছে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত চার দফায় মোট ২২ হাজার টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে পৌঁছায়। এসব জ্বালানি পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে সংরক্ষণ করে পরে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই পাইপলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: আজকের মুদ্রার দর : ২২ এপ্রিল ২০২৬
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর বাংলাদেশকে ডিজেল সরবরাহ করবে। প্রতি বছর ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানির সুযোগ থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী এ পরিমাণ বাড়ানো যাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টন পর্যন্ত জ্বালানি আমদানি সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
এর আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেলপথে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি পরিবহনে সময় লাগতো ৬ থেকে ৭ দিন। পাইপলাইন চালু হওয়ায় সেই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও হয়েছে আরও দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন।








