Logo

ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নে নজর দিচ্ছি: অর্থমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জুন, ২০২৬, ১৫:০৬
ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নে নজর দিচ্ছি: অর্থমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতিকে আরও টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকারের অর্থায়ন কৌশলে পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, স্থানীয় ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে ধীরে ধীরে বিকল্প ও বাজারভিত্তিক অর্থায়নের দিকে এগোচ্ছে সরকার। এর মাধ্যমে একদিকে ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগও বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাজেট বিশ্লেষণমূলক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সরকারি ব্যয় নির্বাহে স্থানীয় ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিপক্ষে মত দিয়ে আসছেন। তার মতে, সরকার যখন ১০ থেকে ১৩ শতাংশ সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে, তখন একই অর্থের জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতা করতে হয়। ফলে শিল্প ও ব্যবসা খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয় এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের সময় ব্যাংক ঋণনির্ভরতা কমানোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে এমন একটি অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে ব্যাংক খাতের ওপর চাপ কম থাকবে এবং অর্থ সংগ্রহের জন্য বিকল্প উৎস আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে।

বাজেট প্রণয়নের বাস্তবতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সাধারণত জাতীয় বাজেট তৈরির জন্য কয়েক মাস সময় পাওয়া গেলেও এবার তুলনামূলক স্বল্প সময়ের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ববর্তী সময়ের বিভিন্ন আর্থিক দায় ও বকেয়া বিলের চাপও বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে। বিদ্যুৎ খাতসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বকেয়া পরিশোধের দায়িত্ব এখন সরকারের সামনে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ এখন ঋণের সুদ ও দেনা পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা শুধু ঋণসেবা বা ডেট সার্ভিসিং খাতে ব্যয় করতে হবে। ফলে উন্নয়ন ও সামাজিক খাতে নতুন ব্যয়ের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত হয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি সহায়তা যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় পরিবারের নারী সদস্যদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে গৃহস্থালির কাজে নারীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, কৃষক এবং নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর জন্যও সরাসরি সহায়তা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করা।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যেও জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ হার ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়ন অপরিহার্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তার মতে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে স্কিল ডেভেলপমেন্ট, রিস্কিলিং এবং আপস্কিলিং কর্মসূচির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা করতে হলে শ্রমশক্তিকে যুগোপযোগী দক্ষতায় সজ্জিত করার বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সরকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে রোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংলাপে অংশ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা বাজেটের নানা দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। আলোচনায় দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগ পরিবেশ, শিল্প খাতের উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কৌশল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD