Logo

অস্থির তেলের বাজার, সপ্তাহ শেষে ঊর্ধ্বমুখী দাম

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩:১৩
অস্থির তেলের বাজার, সপ্তাহ শেষে ঊর্ধ্বমুখী দাম
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিনজুড়ে তেলের দামে বড় ওঠানামা হলেও সপ্তাহ শেষে সামগ্রিকভাবে মূল্য বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ এবং মার্কিন অপরিশোধিত তেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম প্রতি ব্যারেলে ২৬ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৫.৩৩ ডলারে পৌঁছায়। তবে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ফিউচারের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.৪৫ ডলার বা ১.৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯৪.৪০ ডলারে।

দিনের শুরুতে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। কিন্তু পরে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির খবরে সেই ঊর্ধ্বগতি কিছুটা কমে আসে। বিশেষ করে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে বাজারে আশাবাদ তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান তাদের শর্ত পূরণে একটি নতুন প্রস্তাব উপস্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতা বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।

তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ রুট কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে।

শিপিং তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র পাঁচটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ইরানের কমান্ডো বাহিনী দুটি জাহাজ জব্দ করার পর এই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জলপথটির নিরাপত্তা ও এর ওপর পশ্চিমা প্রভাব কতটা কার্যকর, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, চলমান শান্তি উদ্যোগে দ্রুত ও কার্যকর অগ্রগতি না এলে এপ্রিলের শেষ দিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে তেলের দাম চলতি বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে তেলের ঊর্ধ্বমুখী দামের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক করপোরেট খাতেও। বহুজাতিক ভোগ্যপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল (পি এন্ড জি) জানিয়েছে, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আগামী অর্থবছরে তাদের মুনাফা প্রায় ১০০ কোটি ডলার কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর আগামী দিনগুলোতে তেলের বাজারের দিকনির্দেশনা নির্ভর করবে।

সূত্র : রয়টার্স

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD