Logo

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলবে কঠোর মুদ্রানীতি, জানালেন অর্থমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২০:১৭
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলবে কঠোর মুদ্রানীতি, জানালেন অর্থমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহের নীতি থেকে সরে এসে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর নেতৃবৃন্দ ও অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা অংশ নেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজারে অর্থের প্রবাহ সীমিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। অতীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে সুদের হার বেড়েছে এবং বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, সরকার এখন এমন একটি নীতিতে অবস্থান করছে, যেখানে হাই পাওয়ার মানি বাড়িয়ে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য তৈরি করা হবে না। এতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।

অতীতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতির কারণে অর্থনৈতিক সম্পদ কিছু গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। এর ফলে অর্থনীতিতে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্য তৈরি হয়। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’-এর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নারীর অর্থনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবার পরিচালনায় নারীরা তুলনামূলকভাবে দক্ষ হওয়ায় তাদের হাতে অর্থ পৌঁছালে তা সঞ্চয় ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বাস্থ্য খাত নিয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, মানুষের ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয় কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ জরুরি। এতে পরিবারের আর্থিক চাপ কমবে এবং জীবনমান উন্নত হবে।

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই খাতই সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করে। পাশাপাশি গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগরি পেশা ও সৃজনশীল অর্থনীতিকে মূলধারায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব, মুদ্রার মান কমে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি বেসরকারি খাতকে চাপে ফেলেছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিতভাবে কাজ করতে পারছে না। বিনিয়োগ বাড়াতে নিয়ম-কানুন সহজ করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎসের অনুসন্ধান বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD