Logo

আইএমএফ পূর্বাভাস : মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২১:০৮
আইএমএফ পূর্বাভাস : মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে সাম্প্রতিক এক পূর্বাভাস। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে বর্তমান ডলার মূল্যে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সূচকে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ২ হাজার ৯১১ ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে ভারতের সম্ভাব্য মাথাপিছু জিডিপি ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮১২ ডলার। ব্যবধান খুব বেশি না হলেও এর প্রতীকী গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য—বিশেষ করে উন্নয়নশীল অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে।

তবে সামগ্রিক অর্থনীতির আকারে এখনও অনেকটাই এগিয়ে ভারত। ২০২৫ সালের হিসাবে দেশটির অর্থনীতির আকার প্রায় ৩ হাজার ৯১৬ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশ-এর প্রায় ৪৫৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির তুলনায় বহু গুণ বড়। তা সত্ত্বেও মাথাপিছু আয়ের সূচকে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে প্রতিযোগিতা ধরে রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু এই প্রবণতাকে ‘বিস্ময়কর’ বলে অভিহিত করেছেন। যদিও কিছু ভারতীয় বিশ্লেষকের মতে, এই অগ্রগতি বাস্তব উৎপাদন বৃদ্ধির চেয়ে বিনিময় হারভিত্তিক হিসাবের প্রভাবও হতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ডলারভিত্তিক মাথাপিছু জিডিপি নির্ধারণে মুদ্রার বিনিময় হার বড় ভূমিকা রাখে। ২০১৮ সালের পর কয়েক বছর বাংলাদেশ এ সূচকে ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। তবে ২০২৫ সালে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে সেই অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন আসে।

ইতিহাসও বলছে, ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সময়েও মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। পরে দীর্ঘ সময় ভারত এগিয়ে থাকলেও ২০১৮ সালে আবারও বাংলাদেশ এগিয়ে আসে।

বিজ্ঞাপন

তবে আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ভারত আবারও এগিয়ে যেতে পারে এবং অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারে।

অন্যদিকে, ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপি-ভিত্তিক হিসাবে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। এ পদ্ধতিতে দেশীয় মুদ্রার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়। সেখানে ভারত এখনও এগিয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালে ভারতের পিপিপি-ভিত্তিক মাথাপিছু আয় ছিল ১১ হাজার ৭৮৯ ডলার, যেখানে বাংলাদেশের ছিল ১০ হাজার ২৭১ ডলার।

বিজ্ঞাপন

আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। তখন ভারতের পিপিপি-ভিত্তিক মাথাপিছু আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৮ হাজার ৪৮৫ ডলার, বিপরীতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য আয় হতে পারে ১৪ হাজার ৮৫৭ ডলার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলারভিত্তিক মাথাপিছু আয়ে সাময়িক অগ্রগতি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও এটি এককভাবে জীবনমানের পূর্ণ প্রতিফলন নয়। এজন্য আয়বৈষম্য, জীবনযাত্রার মান এবং পিপিপি-ভিত্তিক সূচকসহ অন্যান্য বিষয় সমানভাবে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD