Logo

কর আদায় না বাড়লে বাড়বে অর্থনৈতিক চাপ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ মে, ২০২৬, ১৪:২৬
কর আদায় না বাড়লে বাড়বে অর্থনৈতিক চাপ
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে বলে মত দিয়েছেন গবেষকেরা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে এ বিষয়টি উঠে আসে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।

সংলাপে বক্তারা বলেন, কর আদায় না বাড়িয়ে সরকারি ব্যয় ও ঋণ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ আলোচনায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক শারমিন্দ নীলোর্মি এবং বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হকসহ অনেকে অংশ নেন।

মূল প্রবন্ধে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, উন্নয়ন ব্যয় বাড়াতে হলে কর আদায়ও সমানভাবে বাড়াতে হবে। না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, সরকারের ঋণ ক্রমাগত বাড়ছে এবং উন্নয়ন চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী বাজেটে আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি উল্লেখ করেন, আগামী বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে, যা অর্জনে প্রায় ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ২০১১ সালের পর এত উচ্চ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি আর অর্জন হয়নি। তাই বর্তমান কাঠামোয় এই লক্ষ্য বাস্তবায়নযোগ্য কিনা তা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কর আদায় বাড়াতে কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ জরুরি হলেও কিছু খাতে করহার সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। পাশাপাশি সরকারি ব্যয়, বিশেষ করে বেতন কাঠামো বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও রাজস্ব সক্ষমতা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটে জনগণ কত দিচ্ছে এবং কত ফেরত পাচ্ছে—এ বিষয়ে স্বচ্ছ মূল্যায়ন দরকার। পাশাপাশি দুর্নীতির পরিমাণ নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণের দিকেও নজর দিতে হবে। তিনি জানান, আগামী বাজেটে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হতে পারে, যা ঋণনির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্কছাড়ের প্রভাব সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ দরকার, কারণ অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, বরাদ্দ বৃদ্ধির চেয়ে ব্যয়ের মানোন্নয়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবায়নের ঘাটতি ও দুর্নীতি কমানো গেলে বাজেট ঘাটতিও হ্রাস পাবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট ও জ্বালানি সমস্যার মতো চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে এবং ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD