তিন দিনে ইসলামী ব্যাংককে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

তারল্য সংকট সামাল দিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে গত তিন দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকটি মোট ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের নিয়মিত লেনদেন সচল রাখা এবং চলমান তারল্য চাপ মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক বছরে ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের আস্থাহীনতার কারণে ব্যাংকটি তারল্য সংকটে পড়ে। এর প্রভাব গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবাতেও পড়ে।
আরও পড়ুন: আজকের মুদ্রার দর : ১৭ জুন ২০২৬
এদিকে মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। বৈঠক শেষে সংগঠনটি সাত দফা দাবি উত্থাপন করে।
বিজ্ঞাপন
ফোরামের একটি প্রধান দাবি হলো, অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে অধিগ্রহণের অভিযোগ থাকা গোষ্ঠীর হাতে থাকা ব্যাংকের শেয়ার আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া অথবা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে উন্মুক্তভাবে বিক্রি করা। তাদের মতে, এতে ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।
গ্রাহক ফোরাম আরও জানায়, ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের বিষয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের অবহিত করেছে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে বলেও দাবি করেছে গ্রাহক ফোরাম।
দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক ২০১৭ সালে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন বিতর্কের মধ্যে রয়েছে। পরবর্তীতে এস আলম গ্রুপের প্রভাব বিস্তার, বিপুল ঋণ বিতরণ, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: আজকের মুদ্রার দর : ১৬ জুন ২০২৬
বিজ্ঞাপন
গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ নেয়। তবে দীর্ঘদিনের অনিয়মের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এখনও ব্যাংকটি তারল্য সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। ফলে আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।








