Logo

মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭.৫ শতাংশে আনার লক্ষ্য রয়েছে: অর্থমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ জুন, ২০২৬, ১৬:৪৭
মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭.৫ শতাংশে আনার লক্ষ্য রয়েছে: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী | ফাইল ছবি

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষা, খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে একাধিক কর্মসূচি হাতে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখা এবং অঞ্চলভিত্তিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে সরকারি এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সময় দেশের মূল্যস্ফীতি এখনো তুলনামূলক উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে, যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

অর্থমন্ত্রী জানান, মূল্যস্ফীতির প্রভাব থেকে নিম্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ আয়ের জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে এক লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ নারীকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ১০০টি উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

সরকারের মতে, এসব সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে থাকা জনগোষ্ঠীর হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা তাদের ভোগক্ষমতা ও জীবনমান ধরে রাখতে সহায়ক হবে।

খাদ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লাখ পরিবারকে কর্মসংস্থান সংকটের সময়ে ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল ১৫ টাকা কেজি দরে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক হাজারের বেশি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে চাল ও আটা বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৪১৯ উপজেলায় অতিরিক্ত ওএমএস কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে সরকারি খাদ্যগুদামের ধারণক্ষমতা ২৩ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ২৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামো সম্প্রসারণেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। যদিও বাজেটে উত্তরাঞ্চলের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট বরাদ্দ উল্লেখ করা হয়নি, তবুও সামগ্রিক ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা, খাদ্য সংরক্ষণাগার, লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগও উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD