সারাদেশে ১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও বিস্তৃত ও সহজ করতে দেশব্যাপী বাংলা কিউআর কোড ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ‘বাংলা কিউআর কোড ক্যাম্পেইন’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে সারাদেশে এই কিউআর কোড ব্যবহারের কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে চালু হবে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে একটি বিশেষ মেলারও আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বাংলা কিউআর কোড চালুর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের গ্রাহকরা একই কিউআর ব্যবহার করে সহজে লেনদেন করতে পারবেন। এতে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।
বিজ্ঞাপন
তাদের মতে, নতুন এ ব্যবস্থার ফলে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে, লেনদেন হবে দ্রুত ও নিরাপদ। একই সঙ্গে নগদ টাকা ছাপানো, পরিবহন এবং ব্যবস্থাপনার ব্যয়ও কমে আসবে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, দেশের আর্থিক খাতকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগদবিহীন লেনদেন বাড়লে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ সহজ হবে এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রবাহও কমে আসবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল পরিদর্শন করেন। সেখানে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে লেনদেনের বিভিন্ন সুবিধা ও প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞাপন
মেলায় দেশের বিভিন্ন খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে জনপ্রিয় সুপারশপ ও রিটেইল ব্র্যান্ডগুলো তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা প্রদর্শন করে। দর্শনার্থীরা সরাসরি কিউআর কোড স্ক্যান করে লেনদেনের অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলা কিউআর কোডের বাধ্যতামূলক ব্যবহার চালু হলে দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। পাশাপাশি নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক পরিবেশ গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে। নতুন এই উদ্যোগ সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে এবং দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








