Logo

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জোর, মঙ্গলবার নতুন মুদ্রানীতি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ জুন, ২০২৬, ২০:২২
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জোর, মঙ্গলবার নতুন মুদ্রানীতি
ছবি: সংগৃহীত

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিনির্ধারকদের ইঙ্গিত অনুযায়ী, এবারও নীতিগত সুদহারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে চায়।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন। এটি বর্তমান সরকারের আমলে এবং গভর্নর হিসেবে তাঁর প্রথম মুদ্রানীতি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ নীতিমালা অনুমোদন পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো পুরোপুরি কমেনি। এ কারণে নীতিগত সুদহার বর্তমান পর্যায়েই রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সরকারের সম্ভাব্য প্রণোদনা কর্মসূচি, বিভিন্ন খাতে তারল্য সহায়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে বাজার থেকে ডলার কেনার কার্যক্রম অর্থনীতিতে অতিরিক্ত তারল্য সৃষ্টি করতে পারে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

নীতিনির্ধারকদের মতে, সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে সংযত নীতি অনুসরণ করাই সবচেয়ে কার্যকর হবে। তাই প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় সতর্ক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার দিকেই ঝুঁকছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মুদ্রানীতি দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা। এর মাধ্যমে ঋণ প্রবাহ, অর্থ সরবরাহ, বৈদেশিক সম্পদ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছর দুই দফায়—জানুয়ারি-জুন এবং জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য—মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।

চলতি মাসে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সেই লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। তবে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার সেই লক্ষ্যের তুলনায় প্রায় দুই শতাংশ বেশি অবস্থান করছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে দেশের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। একই সময়ে সাময়িক হিসাব অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

এর আগে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক রেপো বা নীতিগত সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। বর্তমানে আন্তঃব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ রয়েছে। আসন্ন মুদ্রানীতিতেও এ দুটি হার অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ এখনও প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ৮ শতাংশ। কিন্তু চলতি বছরের মার্চে তা নেমে আসে মাত্র ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ডিসেম্বরে তা কমে ৬ দশমিক ২০ শতাংশে দাঁড়ায়। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ, এরপর মার্চে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মতে, বিনিয়োগে ধীরগতি, ব্যবসায়িক আস্থার ঘাটতি, জ্বালানি সংকট এবং অর্থনীতির কাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাদের মতে, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমলেও বিনিয়োগ পরিবেশ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে নতুন শিল্প ও ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্যোক্তারা এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD