Logo

রামপালে এবার ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:৫৯
রামপালে এবার ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আলোচিত বাগেরহাটের রামপালে এবার বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৪৪২ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

‘কন্সট্রাকশন অব ৪৪২ মেগাওয়াট পিক (ডিসি) সোলার ফটোভোলটাইক গ্রিড-কানেক্টেড পাওয়ার প্ল্যান্ট অ্যাট ব্লক-বি, রামপাল’ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) জানিয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর সরকারি লক্ষ্যের সঙ্গে প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্পটির ওপর ইতোমধ্যে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাব পাওয়ার পর এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে বিউবোর নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৫ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৭ কোটি টাকা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তহবিলের অর্থ ২ শতাংশ সুদে পাওয়ার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৫ সালের মে মাসে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়। সমীক্ষায় ৬৮৫ একর জমির ওপর ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন না থাকায় প্রকল্পের ব্যয় তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২০১২ সালে মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। জমিটি ব্লক-এ ও ব্লক-বি—দুই অংশে বিভক্ত। ব্লক-এ এলাকায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। আর ব্লক-বির ৯১৮ দশমিক ৫০ একর জমি বিউবোর অধীনে রয়েছে।

গ্রিন বেল্ট, বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ, দিঘি ও লেকের জন্য নির্ধারিত জমি বাদ দেওয়ার পর ব্লক-বিতে প্রায় ৬৮৫ একর ব্যবহারযোগ্য জমি রয়েছে। এই জায়গাতেই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিউবোর সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশেই ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের আপত্তির কারণে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির পিইসি সভা সম্পন্ন হয়েছে এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সম্মতিও পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পিইসি সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয় খাত পুনর্মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো, কারিগরি কর্মী, বার্ষিক বাজেট এবং পরিচালন ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প শেষে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় ২৫৬ জন জনবল প্রয়োজন হবে। তাদের জন্য বছরে প্রায় ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় একটি জিপ, একটি মাইক্রোবাস ও একটি পিকআপ ভাড়ায় ব্যবহারের বিষয়ে সম্মতি মিললেও প্রকৌশলীদের জন্য ছয়টি মোটরসাইকেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টারপ্ল্যান ২০২৩-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ২৯ হাজার ২৫৭ মেগাওয়াটে, ২০৪১ সালে ৫৮ হাজার ৫৯৭ মেগাওয়াটে এবং ২০৫০ সালে ৯৬ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।

এ অবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি বৈচিত্র্য আনা এবং নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। রামপালের প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়িত হলে সেই উদ্যোগে বড় ধরনের সংযোজন হবে বলে আশা করছে বিউবো।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD