বৈধ পথে রেমিট্যান্সে বড় উল্লম্ফন, ২৪ দিনে ২৩৪ কোটি ডলার

হুন্ডি নিরুৎসাহিত করতে সরকারি উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবা সহজ হওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক গতি দেখা দিয়েছে। চলতি আগস্টের প্রথম ২৪ দিনেই দেশে এসেছে ২৩৪ কোটি মার্কিন ডলার।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে আগস্টের প্রথম ২৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৬ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৪৮ কোটি ডলার, যা প্রায় ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর সঙ্গে আগস্টের প্রথম ২৪ দিনে আসা ২৩৪ কোটি ডলার যোগ হলে প্রথম ৫৫ দিনে মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২০ কোটি ডলার।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪৩৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫৫ দিনে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৮৬ কোটি ডলার। শতাংশের হিসাবে প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ।
অর্থনীতির জন্য রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ায় হুন্ডির ওপর নির্ভরতা কমার সুযোগ তৈরি হয়। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগের অর্থবছরেও রেকর্ড রেমিট্যান্স
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত ওই অর্থবছরে বৈধ চ্যানেলে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় আসে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন
এক অর্থবছরে দেশে এত বেশি রেমিট্যান্স এর আগে কখনো আসেনি। চলতি অর্থবছরের শুরুতেও প্রবৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার জোগান ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় এটিকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।








