Logo

ছুটির দিনেও চড়া সবজির দাম, চাপে নিম্নআয়ের মানুষ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:২৫
ছুটির দিনেও চড়া সবজির দাম, চাপে নিম্নআয়ের মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুধবার (২৬ আগস্ট) সরকারি ছুটি থাকলেও রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি নেই। ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। মাছ-মাংসের বাড়তি দামের সঙ্গে সবজির উচ্চমূল্যও নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সকালে রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারভেদে সবজির দামে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে। বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলের মতো সবজি ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে শসা, যার কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বর্ষায় আগাম বাজারে আসা শিমের দাম আরও বেশি—প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। অন্যদিকে পেঁপে মিলছে সবচেয়ে কম দামে, কেজি ৪০ টাকা।

তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কাঁচা মরিচে। কয়েক সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা পর্যন্ত ওঠা এই পণ্যটি সরবরাহ বাড়ায় এখন মানভেদে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বাজারে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙা ও করলার দাম কেজিতে প্রায় ৮০ টাকা। একটি লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বাজারে সবজি কিনতে আসা রাবেয়া বেগম বলেন, আগে তুলনামূলক কম টাকায় এক ব্যাগ সবজি কেনা গেলেও এখন একই পরিমাণ অর্থ খরচ করেও ব্যাগ ভরা সম্ভব হচ্ছে না। তার অভিযোগ, দেশীয় উৎপাদনের সবজির দামও বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রায়ের বাজারের ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে ১০০ টাকায় কয়েক ধরনের সবজি কেনা যেত। এখন এক কেজি সবজি কিনতেই ৮০ থেকে ১০০ টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে এক হাজার টাকা নিয়ে বাজারে এসেও অল্প কিছু পণ্য নিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বিক্রেতারা সবজির দাম বাড়ার পেছনে সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও আবহাওয়ার প্রভাবকে দায়ী করছেন। ব্যবসায়ী দিদারুল আলম জানান, অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং মোকাম পর্যায় থেকেও সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

মুরগির বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও আগের তুলনায় কমেনি। এক ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহে ডজনপ্রতি কিছুটা কমে পাওয়া গেলেও বর্তমানে সেই সুযোগ নেই।

মাছের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি কইয়ের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ প্রায় ৭০০ টাকা কেজি।

চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে কেজিপ্রতি হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মাছ বিক্রেতা কাইয়ূম বলেন, বাজারে মাছের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। তবে একদিন ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবার দাম বেড়ে যাচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD