Logo

সপ্তাহজুড়ে বড় পতনের পর হঠাৎ বাড়লো সোনার দাম

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:৪৪
সপ্তাহজুড়ে বড় পতনের পর হঠাৎ বাড়লো সোনার দাম
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি এবং ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশার মধ্যেও শুক্রবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে দৈনিক এই ঊর্ধ্বগতি সাপ্তাহিক দরপতনের ধারা ঠেকাতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩০৩ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৩৯ ডলারে স্থির হয়েছে। তবে পুরো সপ্তাহের হিসাবে স্পট সোনার দাম কমেছে প্রায় ১.৭ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনা আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন পণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের আয়োজনে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা দ্বিপক্ষীয় একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে পারে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারে।

ট্রেডইউ ডটকমের (Tradu.com) জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবোরাস বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তার মতে, এর ফলে শুক্রবার সোনার বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে জাবোরাস মনে করেন, মার্কিন ফেডের সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এবং ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধির কারণে সোনা ধরে রাখার সুযোগ-ব্যয় বেড়েছে। কারণ সুদ না দেওয়া সোনার তুলনায় সুদযুক্ত সম্পদ বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এ কারণেই সপ্তাহের হিসাবে সোনার দাম পতনের মুখে পড়েছে।

সম্প্রতি দীর্ঘ তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফেডারেল রিজার্ভ নীতিগত সুদের হার ০.২৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও সুদহার বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শিকাগো মার্চেন্টাইল এক্সচেঞ্জের ‘ফেডওয়াচ’ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা আগামী অক্টোবরে আরও ০.২৫ শতাংশ সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা ৭১ শতাংশ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে বাড়ার সম্ভাবনা ৯৫ শতাংশ বলে ধারণা করছেন।

সাধারণত মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সুদযুক্ত ও তুলনামূলক নিশ্চিত মুনাফার সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এতে সোনার চাহিদায় চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সামনে উৎসবের মৌসুম থাকায় সোনার দাম কিছুটা কমে আসায় প্রতিবেশী ভারতে চলতি সপ্তাহে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা সামান্য বেড়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের পাশাপাশি মার্কিন ডলার সূচকও ০.৩ শতাংশ কমেছে। ডলারের মূল্য কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেনকারী ক্রেতাদের কাছে ডলারভিত্তিক সোনা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়েছে।

জাবোরাস বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি বা ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হলে বিনিয়োগকারীরা আবারও সোনার মতো ভৌত সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন। সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা এবং বিনিয়োগ প্রবাহের ওপর নির্ভর করে বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে সোনার বাজারে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে শুক্রবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট সিলভারের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ৮২ ডলারে উঠেছে। প্ল্যাটিনামের দাম বেড়েছে ১.৭ শতাংশ, প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭৭ দশমিক ৩৮ ডলার। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৬৯ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে সপ্তাহের সামগ্রিক হিসাবে সোনা, রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়াম—এই মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারেই পতনের প্রবণতা দেখা গেছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD