Logo

এআইয়ের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে শ্রমবাজার, বাড়ছে পেশা পরিবর্তনের চাপ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:৩২
এআইয়ের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে শ্রমবাজার, বাড়ছে পেশা পরিবর্তনের চাপ
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তারে আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। ম্যাককিনসি গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের নতুন এক বিশ্লেষণ বলছে, এআইয়ের প্রভাবে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন কর্মীকে পেশা পরিবর্তনের পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে, যা দেশটির মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৭ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এআইয়ের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার কর্মীর পেশা পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার মানুষ পেশা পরিবর্তন করেন। অর্থাৎ নতুন প্রযুক্তির প্রভাবে এই পরিবর্তনের গতি কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষকদের মতে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে কর্মীদের শুধু পেশা বদলাতেই হবে না, বর্তমান চাকরির দায়িত্বও উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মীকে নিজেদের কাজের অন্তত কোনো একটি অংশ নতুনভাবে সাজাতে হতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ম্যাককিনসির অংশীদার ও প্রতিবেদনটির সহলেখক আনা কোর্টিস বলেন, অতীতের অন্যান্য সাধারণ প্রযুক্তির মতো এআইও নতুন চাকরি ও কর্মভূমিকা তৈরি করবে এবং বিদ্যমান অনেক পেশার কাঠামো পরিবর্তন করবে। তবে এবার পরিবর্তনের গতি ও ব্যাপ্তি আগের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।

করোনা মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমবাজারে এ ধরনের পরিবর্তনের একটি বড় উদাহরণ দেখা গিয়েছিল। সে সময়ে বছরে প্রায় ৭ লাখ ৮৮ হাজার কর্মী পেশা পরিবর্তন করেছিলেন। ম্যাককিনসির হিসাব অনুযায়ী, এআইয়ের প্রভাবে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিবর্তন আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এআই নিয়ে কর্মীদের উদ্বেগও বাড়ছে। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত Glassdoor-এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে কর্মীদের আত্মবিশ্বাসের সূচক নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। কর্মীদের দেওয়া বিভিন্ন পর্যালোচনায় এআই-সংক্রান্ত শব্দের ব্যবহার গত বছরের তুলনায় ১৬৪ শতাংশ বেড়েছে।

এর আগে Anthropic-এর প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, এআইয়ের দ্রুত রূপান্তরের ফলে এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এন্ট্রি-লেভেলের সাদা-কলার চাকরির বড় একটি অংশ বিলুপ্ত হতে পারে এবং বেকারত্বের হার ১০ থেকে ২০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত শ্রমবাজারে এমন ব্যাপক কর্মসংস্থান ধস দেখা যায়নি।

ম্যাককিনসির বিশ্লেষণেও পরিস্থিতিকে কেবল চাকরি বিলুপ্তির সংকট হিসেবে দেখা হয়নি। বরং নতুন চাকরি তৈরি হলেও প্রয়োজনীয় দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে বিদ্যমান কর্মীদের যোগসূত্র তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

গবেষকদের মতে, এআইয়ের প্রভাব কর্মক্ষেত্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনতে পারে। শিল্পবিপ্লবের সময় শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠন ও সামাজিক আন্দোলনের যে বিকাশ ঘটেছিল, প্রযুক্তিগত রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বোঝাতে সেটিকে একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

ফলে এআইয়ের যুগে শ্রমবাজারের মূল প্রশ্ন শুধু কত চাকরি থাকবে, তা নয়; বরং পরিবর্তিত চাকরিগুলোর জন্য কর্মীরা কতটা দ্রুত নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন এবং সেই সুযোগে তাদের প্রবেশ কতটা সহজ হবে—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD