ডলারের দরপতনে বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় লাফ

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে তেলের দাম। এর প্রভাবে মার্কিন ডলারের দর দুর্বল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৯ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছায়। এ অবস্থায় সপ্তাহজুড়ে সোনার দাম বাড়ার পথে রয়েছে।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৯০ দশমিক ৪৯ ডলার হয়েছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬২ দশমিক ১৮ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য সোনার ফিউচার মূল্যও বেড়েছে। এ চুক্তির দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৫ দশমিক ৩০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ডলারের দুর্বলতায় সোনার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না তাঁর দেশ। একই সময়ে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলমান রয়েছে। চলমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
জেফরিজের মালিকানাধীন ট্রেডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস বলেন, তেলের দাম কমে আসায় চলতি মাসে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে যুক্তি জোরালো হচ্ছে। এর ফলে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বন্ডের মুনাফার হারও সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা নেমেছে। তাঁর মতে, এসব পরিস্থিতি সোনার দাম পুনরুদ্ধারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন ডলারের দর কমে গেলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারে নির্ধারিত সোনার দাম তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
সোনার দাম কমার ঝুঁকিও রয়েছে
তবে সোনার বাজারে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন নিকোস জাবুরাস। তাঁর মতে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপও অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া বাজারে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে এবং বন্ডের মুনাফার হারও তুলনামূলক বেশি। এসব কারণে সোনার দাম আবারও কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে সোনাকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে সোনায় বিনিয়োগের আকর্ষণ কমতে পারে। কারণ, সোনা থেকে সুদ বা নিয়মিত আয় পাওয়া যায় না। অন্যদিকে সুদযুক্ত সম্পদে বিনিয়োগ করলে আয় পাওয়ার সুযোগ থাকে।
সূত্র: রয়টার্স








