Logo

ফুটপাতে খাবারের দোকান দিতে হলেও নিতে হবে লাইসেন্স

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩:৩৯
ফুটপাতে খাবারের দোকান দিতে হলেও নিতে হবে লাইসেন্স
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশের নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।

বিজ্ঞাপন

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফুটপাতের অস্থায়ী খাবারের দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও আমদানিকারকদেরও প্রযোজ্য নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে।

গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। এ বিধিমালার আওতায় সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১ নভেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নতুন বিধিমালায় নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং সেবা, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর মতো খাবার বিক্রি করেন—এমন ব্যবসায়ীদেরও নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এ ছাড়া পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ, ভোজ্যতেল ও লবণ উৎপাদন এবং নির্ধারিত বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও বিপণনের ক্ষেত্রেও বিধিমালা অনুযায়ী নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণন। শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা বয়স্কদের জন্য তৈরি বিশেষ খাবারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বিধান অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিধিমালার তফসিল-১০ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। লাইসেন্সের জন্য প্রযোজ্য ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ এবং নিবন্ধনের জন্য ফরম ৫.১ ব্যবহার করতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন বা লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও তা ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষে তা নবায়ন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে। অন্যদিকে, বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হবে প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফি ১০ হাজার টাকা। ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্সের ফি ৬০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নতুন নিয়মে প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএ নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর মাধ্যমে ভোক্তারা পণ্যের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং কোনো অভিযোগ থাকলে নম্বরটি উল্লেখ করে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পর্যায়ক্রমে শতভাগ অনলাইন আবেদন চালুর উদ্যোগও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিএফএসএর মতে, নতুন বিধিমালার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে, উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রমে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD