ওহ সাচ্চে মুসলিম কি আওলাদ হ্যায়, আভি ভি সাচ্চে হ্যায়!

আজ আমরা যে দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলছি আমি বাংলাদেশের সন্তান, এ দেশ আমার, এদেশের মাটি আমার মায়ের মতো! অবশ্যই আমাদের দেশ, আমার সোনার বাংলাদেশ আমাদের সবার।
বিজ্ঞাপন
আমাদের মাতৃভূমির জন্যে আমাদের একবুক তৃষ্ণা, যেমন মায়ের আঁচলের ছায়া তলে থাকার জন্যে মন কেমন কেমন করে ঠিক তেমনই।
প্রিয় আগামীর প্রজন্ম, এই বাংলাদেশ আমাদের কেউ এমনিতে দান করেনি। এদেশের কিছু সূর্য সন্তান স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। জীবনবাজি রেখে এদেশের কৃষক, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতি, সাংবাদিক, লেখক, শিক্ষক, রাজনৈতিক, চিকিৎসক পেশাজীবিদের সকলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলেন বাংলাদেশের নাম বিশ্ব মানচিত্রে লিখতে।
এই বাংলাদেশ পেতে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। অনেক মা-বোনের সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে। অনেক তাজা প্রানের রক্ত দিয়ে মাটি ভেজাতে হয়েছে। দু-চোখ দিয়ে গ্রাম কে গ্রাম আগুনে পুড়তে দেখতে হয়েছে। বিধবা হয়েছে লাখ লাখ মা-বোন, এতিম হয়েছে বহু শিশু। পাষণ্ডদের পাশবিকতার কারণে কতো মা-বোন লাশ হয়েছিল, তার কি প্রকৃত খোজ কেউ রেখেছে?
বিজ্ঞাপন
গণমাধ্যমের বরাত, চাক্কুস সাক্ষী, বিদেশি মিডিয়া এবং ইতিহাস ও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা থেকে যে ভয়াবহ তথ্য পাওয়া যায়, যদি আজকের যুগের মতো ফেসবুক-ইউটিউবের যুগ হতো, তাহলে সেই বীভৎসতার চিত্র দেখে হয়তো বিশ্ববাসী অবাক হতো।
কারা সেদিনের অপরাধী ছিলো? শুধুই কি পাকিস্তানি বাহিনী?
সেদিন বাংলাদেশ নামক স্বপ্নকে গুড়িয়ে দিতে পাকিস্তান আর্মি ও তাদের দোসরেরা ৯ মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে তারপর পরাজয় স্বীকার করে পালিয়ে ছিলো। এরপরেও কি তাদের অপতৎপরতা বন্ধ ছিলো? তারা কি পরাজয় মেনে নিয়ে নিজেদের শুধরে ছিলো?
বিজ্ঞাপন
নাহ! তারা লাগাতার ভাবে সদ্য স্বাধীন হওয়া একটা দেশ নিয়ে বিশ্ববাসীকে জানিয়েছে, এ দেশ হিন্দু রাষ্ট্র হয়ে গিয়েছে। এ দেশে যেনো কেউ সাহায্য না করে, যেন সহায়তা না পাই। সেই লক্ষ্যে আরব দেশগুলোসহ অনেক পশ্চিমাদের কাছেও মিথ্যাচার করে ক্যাম্পেইন শুরু করে। তাদের প্রচেষ্টা ছিলো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সাহায্য না এলে এদেশে গৃহ যুদ্ধের সূচনা হবে এবং বাংলাদেশের সেই স্বাধীনতাকামী জনগণ আবারও পাকিস্তানের পক্ষে ফিরে যেতে চাইবে।
৫৫ বছর পর ২০২৬ সালে, আজ নিজেদের সুর বদলে পরাজিত শক্তি দেশপ্রেমিক সাজতে চায়। তারা ইনিয়েবিনিয়ে স্বাধীনতার ইতিহাস বদলে দিতে চায়।
তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুরোধ, আপনারা সঠিক ইতিহাস পড়বেন। যে দেশ পেতে এতো এতো প্রাণের বিনিময় করতে হয়েছে, এতো নারীদের মূল্যবান সম্পদ নারীত্ব হারাতে হয়েছে এবং এতো শিশুদের পরিচয় হারানোর পর পাওয়া দেশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আবেগ, প্ররোচনা, লোভ, অথবা ক্রোধের কারণে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
বিজ্ঞাপন
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তারা বুদ্ধিজীবীদের নাস্তিক বলে আখ্যায়িত করেছিল, এদেশের মুসলমানদের যারা বলতো এই স্বাধীনতার পক্ষে থাকলে তারা কাফের হয়ে যাবে। মূলতঃ স্বাধীনতা যুদ্ধে এদেশের স্বাধীনতাকামীদেরকে প্রতিহত করতে ইসলামকে ব্যবহার করেছিল। সেদিনও ‘ওহ সাচ্চে মুসলিম কি আওলাদ হ্যায়, আভি ভি সাচ্চে হ্যায়!’
লেখক,
সাংবাদিক ও কলামিস্ট








