শৈত্যপ্রবাহে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রা থমকে গেছে

দীর্ঘদিন ধরে শৈত্যপ্রবাহে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রা থামকে গিয়েছে। যদিও প্রতি বছর শীতকালীন সময়ে এমন পরিস্থিতি সম্মুখীন উত্তরাঞ্চলের মানুষদের হতেই হয় কারণ হিমালয় পর্বত উত্তরাঞ্চলের পাশের দেশ ভারত ও নেপালে উপস্থিত।
বিজ্ঞাপন
আজ ৩১ ডিসেম্বর তারিখের আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: উত্তরাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা সাধারণত ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে কিছু স্থানে এটি ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে বলে রেকর্ড করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: দিনের বেলায় উত্তরাঞ্চলে (যেমন রংপুর ও রাজশাহী) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে।আবহাওয়ার পরিস্থিতি: ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: নেত্রকোণায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে যে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বর্তমানে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে (১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রেকর্ড করা হয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলেও কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
কিন্তু দীর্ঘদিন বা দীর্ঘসময় ধরে শৈত্যপ্রবাহ চলমান থাকায় সেই সাথে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ায় হাড়কাপানো শীত পড়েছে, যার জন্য বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষরা গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। শুধু কি তাই পশু পাখী জীবজন্তু, বৃক্ষ, তরুলতা সহ সকল প্রাণীকুল অসহায়ত্ব জীবন অতিক্রম করছে।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু দরিদ্র পরিবারের অভাবগ্রস্ত মানুষরা যাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম না করলে পেটের খাবার জুটেনা, তারাও আজ না পারছে মাঠেঘাটে কাদা পানিতে নেয়ে কৃষিকাজ করতে, না পারছে অন্যন্য কাজকর্ম করতে না পারছে চুপচাপ ঘরে বসে থাকতে, কারণ উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষরা নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য, তার উপর আবার শিল্প কলকারখানা পর্যাপ্ত না থাকায় বেকারত্ব জীবন নিয়ে হতাশাগ্রস্ত। ক্ষেত খামারের কৃষি কাজ বা শহরের গিয়ে অটো ভ্যান, অটো রিকশা চালনা করে যত সামান্য আয় রোজগার হয় সেটাও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
এমতাবস্থায় সরকার বাহাদুরের উচিত জরুরি ভিত্তিক ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের সহযোগিতায় আর্থিক ভাবে সাহায্য করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
বিজ্ঞাপন
এছাড়াও সরকারের পাশাপাশি দেশের ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসা, যাতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতে পারে। কারণ অভাবগ্রস্ত মানুষরা এমনিতে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে তার উপর আবার প্রাকৃতিক এমন দুর্যোগ মোকাবিলা করা খুবই কঠিন হয়ে পরবে। একবার যদি শীতকালীন জটিল কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মহামারী আকার ধারণ করে, তাহলে সবাই বিপদে পরতে পারে এমন অসংখ্যা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে সবাই খেয়ে পড়ে স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে পারে।
খলিল মাহমুদ, সিংড়া (নাটোর)








