Logo

‘সবার আগে হাসিমুখ’ তথ্যচিত্রে উঠে আসা এক অন্য তারেক রহমান

profile picture
রাজু আহম্মেদ শাহ্
৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২০:৫০
‘সবার আগে হাসিমুখ’ তথ্যচিত্রে উঠে আসা এক অন্য তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

রাজনীতির মঞ্চে বিরামহীন এক যোদ্ধা, কিন্তু পর্দার আড়ালে এক দরদী প্রাণ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার জীবনের অজানা মানবিক দিকগুলো নিয়ে নির্মিত ‘সবার আগে হাসিমুখ’ তথ্যচিত্রটি যেন এক দীর্ঘ নীরব মানবতার দলিল। এই তথ্যচিত্রে উঠে আসা প্রতিটি গল্প আমাদের শেখায় যে, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পদের চেয়ে বড় প্রয়োজন একটি মমতাময় হৃদয়।

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি মানেই যেখানে ক্ষমতার লড়াই আর প্রচারের ডামাডোল, সেখানে তারেক রহমানের মানবিক সত্তা নিয়ে নির্মিত ‘সবার আগে হাসিমুখ’ তথ্যচিত্রটি এক নতুন সমীকরণ সামনে এনেছে। সাধারণত রাজনৈতিক নেতাদের দান-খয়রাত ক্যামেরা আর মাইক্রোফোনের সামনেই বেশি দেখা যায়। কিন্তু এই গল্পের মূল আকর্ষণ হলো—নিভৃতে থাকা এক সাহায্যকারীর মমতার হাত।

একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা যখন লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে থেকেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মরণাপন্ন ক্যানসার রোগী বা দুস্থ পরিবারের খবর রাখেন, তখন তা কেবল রাজনৈতিক দায়িত্ব থাকে না; বরং তা হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা। তথ্যচিত্রটি প্রমাণ করে যে, অনেক ক্ষেত্রে সহায়তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জানতেনই না যে টাকাটি কার কাছ থেকে আসছে। এই গোপনীয়তা সাহায্যের মাহাত্ম্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ময়মনসিংহে ট্রাক দুর্ঘটনায় মায়ের পেট ফেটে জন্ম নেওয়া শিশু বা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাগুলো রাজনৈতিক ইশতেহারের অংশ নয়। এটি একজন সংবেদনশীল মানুষের পরিচয়। বিশেষ করে, প্রাণিকল্যাণের মতো সূক্ষ্ম মানবিক বিষয়গুলো যখন একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনযাত্রায় উঠে আসে, তখন তা আমাদের দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন অতিবাহিত করে বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেই বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। তথ্যচিত্রটি দেখার পরে মনে হয়েছে, তিনি যথার্থই বলেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

গুম বা শহীদ হওয়া প্রায় ৯০০ পরিবারের নিয়মিত খরচ বহন করা কোনো ছোট কাজ নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। তথাকথিত ‘পপুলিজম’ বা তাৎক্ষণিক হাততালি পাওয়ার জন্যে না।

‘সবার আগে হাসিমুখ’ কেবল একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি নয়, বরং এটি তারেক রহমানের ইমেজের সেই অংশটি উন্মোচন করেছে। যা দীর্ঘকাল রাজনীতির মারপ্যাঁচে চাপা পড়েছিল। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এই প্রচেষ্টা যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা আগামী দিনের রাজনীতিতে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

অলৌকিক জন্ম ও এক বাবার ছায়া

বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাক দুর্ঘটনায় মায়ের পেট ফেটে জন্ম নেওয়া সেই অলৌকিক শিশুটির কথা হয়তো দেশবাসী ভুলে গিয়েছে। কিন্তু তারেক রহমান ভুলেননি। তথ্যচিত্রটিতে দেখা যায়, মা-বাবা হারানো সেই শিশুটির পরিবার যেন দিশেহারা না হয়, সেজন্য তিনি নিয়মিত মাসিক খরচের ব্যবস্থা করেছেন। কোনো ক্যামেরা বা প্রচার ছাড়াই শিশুটির বড় হয়ে ওঠার দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছেন এই নেতা।

মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যে হাসি

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে যারা বুক পেতে দিয়েছিলেন বুলেটের সামনে, তাদের অনেকেরই চিকিৎসার খরচ জুগিয়েছেন তারেক রহমান। তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে ক্যানসার আক্রান্ত এক শিক্ষার্থীর কথা, যার চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটানো ছিল পরিবারের সাধ্যের বাইরে। যখন সব আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল, ঠিক তখনই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। সুস্থ হয়ে সেই শিক্ষার্থীর হাসিমুখই যেন এই তথ্যচিত্রের সার্থকতা।

বিজ্ঞাপন

গুম ও শহীদ পরিবারের শেষ আশ্রয়

গত ১৫ বছরে যারা গুম হয়েছেন বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, এমন প্রায় ৯০০ পরিবারের কাছে তারেক রহমান এক নির্ভরতার নাম। তথ্যচিত্রে দেখানো হয়েছে, প্রতিটি ঈদে এই পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে যায় উপহার ও আর্থিক সহায়তা। তারা সমাজ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও, লন্ডনে বসে তারেক রহমান তাদের একাকীত্ব ঘুচিয়েছেন পরম মমতায়।

অবলা প্রাণীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা

বিজ্ঞাপন

সাধারণত রাজনৈতিক নেতাদের কেবল মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। কিন্তু ‘সবার আগে হাসিমুখ’-এ দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। অবলা ও নিরপরাধ প্রাণীদের প্রতি তারেক রহমানের যে মায়া, তা সচরাচর দেখা যায় না। রাস্তার অভুক্ত প্রাণী বা অসুস্থ পশুপাখির সেবায় তার গোপন উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে তার মানবিকতা কোনো সীমারেখায় আবদ্ধ নয়।

প্রচারহীন শিক্ষা ও ধর্মীয় সেবা

দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তিনি বছরের পর বছর ধরে অনুদান দিয়ে আসছেন। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তার সহায়তায় পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ তারা নিজেরাও জানে না তাদের শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করছেন তারেক রহমান। এই ‘গোপন দান’ বা নিভৃতে সাহায্য করাই ছিল এই গল্পের মূল সুর।

বিজ্ঞাপন

‘সবার আগে হাসিমুখ’ কেবল একটি তথ্যচিত্র নয়, এটি একজন মানুষের প্রতিচ্ছবি যিনি বিশ্বাস করেন—মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই হলো শ্রেষ্ঠ ইবাদত। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এই মানবিকতা যেন আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD