Logo

সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে বাড়ে কর ও জরিমানা

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৯:২৪
সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে বাড়ে কর ও জরিমানা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি করবর্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব ব্যক্তি আয়কর রেজিট্রেশন গ্রহণ করেছেন, তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।

বিজ্ঞাপন

যদিও আয়কর আইনে প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে ৩০ নভেম্বরকে ট্যাক্স ডে হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং ওই তারিখের মধ্যেই করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়, তবুও সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে এনবিআর অনেক সময় করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি করে থাকে। সে ক্ষেত্রে বর্ধিত সময়ের মধ্যেই করদাতাদের রিটার্ন দাখিল করতে হয়। তবে যাদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক, তাদের অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন জমা দিতে হবে।

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৬৬ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে আয় করমুক্ত সীমার বেশি হয়, অথবা গত তিন বছরের যেকোনো এক বছরে তার ওপর আয়কর নির্ধারিত হয়ে থাকে, তবে তাকে অবশ্যই আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এছাড়া কোনো ব্যক্তি যদি কোম্পানি, ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের মালিক, অংশীদার, পরিচালক, ব্যবস্থাপক বা শেয়ারহোল্ডার হন, অথবা তিনি গণকর্মচারী হন, কিংবা অনিবাসী হয়েও বাংলাদেশে স্থায়ী ব্যবসা-স্থাপনা রাখেন, তাহলেও তার জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। একইভাবে, বিশেষ কর-ছাড়প্রাপ্ত বা কম করহারযুক্ত কোনো আয় অর্জন করলে, করদাতা হিসেবে নিবন্ধনযোগ্য হলে, কিংবা আইন অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রিটার্ন জমা দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বাস্তবে দেখা যায়, অনেক করদাতা ব্যস্ততা, অবহেলা কিংবা ভুলে যাওয়ার কারণে সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেন না। কিন্তু আয়কর আইন, ২০২৩ এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট। আইনের ধারা ১৭৪ অনুযায়ী, রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও কোনো করদাতা যদি নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বা তার আগে রিটার্ন দাখিল না করেন, তাহলে তার কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান প্রযোজ্য হবে।

এই ক্ষেত্রে প্রথমে নির্ধারিত তারিখে রিটার্ন দাখিল করলে যে পরিমাণ কর দিতে হতো, তা নিরূপণ করা হবে (কিছু নির্দিষ্ট কর অব্যাহতি ছাড়া অন্য কোনো ছাড়, ন্যূনতম কর, সারচার্জ, সুদ বা জরিমানা বাদ দিয়ে)। এরপর সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে পরিশোধিত অগ্রিম কর ও উৎসে কর বাদ দেওয়া হবে। অবশিষ্ট প্রদেয় আয়করের ওপর রিটার্ন দাখিলে যত মাস বিলম্ব হয়েছে (সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত, ভগ্ন মাসকেও পূর্ণ মাস হিসেবে গণ্য করা হবে), প্রতি মাসে ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর আরোপ করে অপরিশোধিত আয়করের সঙ্গে যোগ করে মোট প্রদেয় কর নির্ধারণ করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে আইনের অন্যান্য দায় ও বিধান বহাল থাকবে।

এছাড়া আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬৬ অনুযায়ী দেরিতে রিটার্ন দাখিলকারীদের জন্য আলাদা জরিমানার বিধান রয়েছে। যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে প্রথমে সর্বশেষ নিরূপিত করের ১০ শতাংশ জরিমানা আরোপ করা হয়, যা কোনো অবস্থাতেই ১,০০০ টাকার কম হবে না। পরবর্তীতে বিলম্ব অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন ৫০ টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা যোগ হতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

তবে আইনে জরিমানার একটি সর্বোচ্চ সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি করদাতার পূর্বে কোনো কর নিরূপিত না হয়ে থাকে, তাহলে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা হবে ৫,০০০ টাকা। আর যদি পূর্বে কর নিরূপিত হয়ে থাকে, তাহলে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা হবে সর্বশেষ নির্ধারিত করের ৫০ শতাংশ বা ১,০০০ টাকা—এই দুইটির মধ্যে যেটি বেশি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখের মধ্যেই রিটার্ন জমা দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এনবিআর ঘোষিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো স্বাভাবিক করদাতা যদি ২০২৫–২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। সে ক্ষেত্রে মোট আয়ের ওপর আরোপযোগ্য আয়করের পরিমাণ থেকে কোনো কর রেয়াত বাদ না দিয়েই চূড়ান্ত কর নির্ধারণ করা হবে। তাছাড়া, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের যে আয়কর নির্দেশিকা অনুযায়ী সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ যেকোনো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা রাখেন কর কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বেতন–ভাতার সীমা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে বেতন–ভাতা গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

অতএব, সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে করদাতাকে একদিকে ধারা ১৭৪ অনুযায়ী প্রতি মাসে ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর দিতে হয়, অন্যদিকে ধারা ২৬৬ অনুযায়ী আলাদা জরিমানাও গুনতে হয়। অর্থাৎ আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়ে যায়। তাই অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা ও অতিরিক্ত ব্যয় এড়াতে করদাতাদের উচিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করা।

ফয়সাল ইসলাম

এফসিএ, আর্থিক খাতের বিশ্লেষক।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD